ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)-এর সভায় প্রতিনিধিত্ব করা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক আরও তীব্র রূপ নিল। এবার সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে মেদিনীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার একদল সদস্য লিখিত অভিযোগ জানিয়ে পাল্টা চিঠি পাঠালেন। চিঠিতে জেলা ক্রীড়া সংস্থায় তীব্র ‘সাংবিধানিক সংকট’ চলছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অসাংবিধানিক চালচলন ও ‘স্বেচ্ছাচারিতা’র অভিযোগ
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে পাঠানো ওই চিঠিতে মেদিনীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও বর্তমান কমিটি সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক উপায়ে সংস্থা পরিচালনা করে চলেছে। বিশেষ করে তিনটি জেলার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়— এই কমিটি যেভাবে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও স্বেচ্ছাচারী।
চিঠিতে আরও জানানো হয়, মেদিনীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি তথা জেলাশাসককে (DM) এই পুরো বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। জেলাশাসকের পরামর্শ মেনে সিএবি যেন তিনটি জেলার ক্রিকেট কার্যক্রম ও প্রতিনিধি নির্বাচন পরিচালনা করে, সৌরভের কাছে সেই আর্জিই জানিয়েছেন সদস্যরা।
সচিবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও সিএবি-র স্পষ্টীকরণ
জানা গিয়েছে, সদস্যদের এই অভিযোগের মূল নিশানায় রয়েছেন মেদিনীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব সঞ্জিত তরৈ। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অবৈধ কাজকর্ম চালানোর অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ সদস্যরা।
উল্লেখ্য, সঞ্জিত তরৈ সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে, গত বছর সিএবি-র বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) তাঁকে প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। তবে তাঁর এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে সিএবি কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, মেদিনীপুরের সদস্যদের এই চিঠি তাঁদের বক্তব্যকেই সমর্থন করছে। সৌরভের কথায়, “আমরা যা বলতে চেয়েছিলাম, মেদিনীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যরা চিঠি দিয়ে ঠিক সেটাই জানিয়েছেন। উনি (সঞ্জিত তরৈ) সে সময় জেলা ক্রীড়া সংস্থার বৈধ সচিব ছিলেন না, তাই তাঁকে বৈঠকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। উল্টে জেলাশাসকের পাঠানো প্রতিনিধিই সিএবি এজিএমে মেদিনীপুরের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। সিএবি-র বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেগুলি সম্পূর্ণ মনগড়া ও পরিকল্পিত।”

