রাজ্য দফতরে বাংলা ব্যবহারের বাধ্যবাধকতার পরেই গুরুংয়ের চিঠি: পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সে নেপালি ভাষাকে সরকারি স্বীকৃতির দাবি

রাজ্য দফতরে বাংলা ব্যবহারের বাধ্যবাধকতার পরেই গুরুংয়ের চিঠি: পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সে নেপালি ভাষাকে সরকারি স্বীকৃতির দাবি

রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতরে কাজকর্ম, আবেদনপত্র এবং প্রশাসনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। এই ঐতিহাসিক ঘোষণার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দাবি জানালেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং। মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলে সরকারি ফর্ম, নির্দেশিকা ও আবেদনপত্রে বাংলার পাশাপাশি নেপালি ভাষার ব্যবহার ও প্রশাসনিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন।

চিঠিতে যুক্তির উপস্থাপন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনের দাবি

গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান বিমল গুরুং চিঠিতে রাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে পাহাড় ও সংলগ্ন অঞ্চলের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করার অনুরোধ জানান। চিঠিতে উল্লিখিত মূল বিষয়গুলো হলো:

  • সাংবিধানিক স্বীকৃতি: নেপালি ভাষা ভারতের সংবিধানের অষ্টম তফসিলভুক্ত একটি অন্যতম স্বীকৃত ভাষা।
  • প্রশাসনিক স্বচ্ছন্দতা: দার্জিলিং, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক গোর্খা মানুষের মাতৃভাষা নেপালি। এই অঞ্চলের অনেক নাগরিকই বাংলা ভাষায় পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ নন। ফলে সরকারি ফর্ম বা যোগাযোগের মাধ্যম কেবল বাংলায় সীমাবদ্ধ থাকলে অনেকেই প্রশাসনিক পরিষেবা গ্রহণ করতে অসুবিধার মুখে পড়তে পারেন।
  • স্বচ্ছতা বৃদ্ধি: সরকারি সমস্ত নথি ও আবেদনপত্র নেপালি ভাষাতেও উপলব্ধ হলে সাধারণ মানুষ সহজে পরিষেবা পাবেন এবং নাগরিক ও সরকারের মধ্যে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।

গুরুং তাঁর চিঠিতে নেপালি ভাষার সাংবিধানিক মর্যাদাকে সম্মান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে বাংলার সমতুল্য হিসেবে নেপালি ভাষার প্রশাসনিক প্রয়োগ সুনিশ্চিত করার দাবি জানান। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনিক নীতিকে শক্তিশালী করবে।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটভূমি

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পাঠানো একটি চিঠির পরই রাজ্য সরকার সমস্ত প্রশাসনিক কাজকর্মে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই সিদ্ধান্তের পরপরই গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সভাপতির এই চিঠি একটি নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মাত্রা তৈরি করেছে। পাহাড়ের প্রশাসনিক সুবিধা ও ভাষাগত অধিকারের প্রশ্নে রাজ্যের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.