মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পতনের পর এই প্রথম ২১ জুলাই পালিত হতে চলেছে রাজ্যে। এ বছর শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রায় আড়াই কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যেই আয়োজিত হতে চলেছে তিনটি পৃথক রাজনৈতিক কর্মসূচি। ফলে মঙ্গলবার শহরের যান চলাচল ও জনজীবন কতটা প্রভাবিত হবে, তা নিয়ে আমজনতার মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে কলকাতা পুলিশ (লালবাজার) সূত্রে জানানো হয়েছে, শহরের মধ্যভাগ সম্পূর্ণ স্তব্ধ হওয়ার আশঙ্কা কম হলেও, যান চলাচলের গতি কিছুটা শ্লথ হতে পারে।
আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে ৩ দলীয় কর্মসূচি
কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে এ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের ‘শহিদ স্মরণ’ সভা অনুষ্ঠিত হবে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘তৃণমূল’ পৃথকভাবে মেও রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ২১ জুলাই পালন করবে। পাশাপাশি, অদূরেই শহীদ মিনারের সামনে রয়েছে কংগ্রেসের দলীয় কর্মসূচি।
শহরের যান চলাচল ও রুট ডাইভারশন
মঙ্গলবার শহরের যান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সচল রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে লালবাজার:
- ক্যাথিড্রাল রোড: সভার কারণে ক্যাথিড্রাল রোডের একাংশ বন্ধ থাকলেও, পশ্চিম দিকের উত্তর থেকে দক্ষিণমুখী রাস্তা অন্য দিনের মতোই খোলা থাকবে। তবে ক্যাথিড্রাল রোড ও কুইন্সওয়ের সংযোগস্থলে কিছুটা যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
- মেও রোড ও ডাফরিন রোড: মেও রোডের একাংশে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হতে পারে। প্রয়োজনে গাড়ির অভিমুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেবে পুলিশ। ফলে মেও রোড ও সংলগ্ন ডাফরিন রোডে যান চলাচলের গতি শ্লথ হতে পারে।
- রেড রোড ও শহীদ মিনার এলাকা: শহীদ মিনার এবং মেও রোডের সভার কারণে রেড রোড সংলগ্ন এলাকায় সমর্থকদের ভিড় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক যান নিয়ন্ত্রণ বা রুট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
- কংগ্রেসের সভা: শহীদ মিনারে কংগ্রেসের কর্মসূচির জন্য আলাদা করে বিশেষ যান নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন পড়বে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ড্রোন নজরদারি
তিনটি হাই-প্রোফাইল সভাকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে তিলোত্তমাকে। লালবাজার সূত্রে জানা গেছে:
- ক্যাথিড্রাল রোড, মেও রোড এবং শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তার জন্য প্রায় ১,০০০ পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে।
- নিরাপত্তা বিধানে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যুক্ত থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও র্যাফ (RAF)।
- গোটা আকাশপথে সার্বিক নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হবে ড্রোন।
- কলকাতা পুলিশের সেন্ট্রাল ও সাউথ ডিভিশনসহ অন্তত ৫ জন ডেপুটি কমিশনার (DC) স্তরের আধিকারিক এই সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকিতে থাকবেন।

