প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে পুরীর গ্র্যান্ড রোডে (বড়দণ্ড) লাখো লাখো মানুষের ভিড়ের মধ্যে তৈরি হলো দমবন্ধ করা পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার জগন্নাথদেব, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রার রথ দর্শনের অপেক্ষায় থাকা পুণ্যার্থীদের ভিড়ের চাপে শ্বাসরোধ হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ভিড়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ, যাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। ওড়িশা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভিড়ের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়া ৩৩ জনকে উদ্ধার করে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বৃষ্টির মাঝেই লাখো ভক্তের সমাগম, চিকিৎসাধীন বহু
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের বাইরে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে। অবিরাম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ভক্তেরা তিন রথ— নন্দীঘোষ, তালধ্বজ ও দর্পদলন দর্শনের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর নাগাদ প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন ৪৫ বছর বয়সী এক পুণ্যার্থী। তিনি জ্ঞান হারালে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে পুরী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ভক্তদের সুরক্ষায় গ্র্যান্ড রোড বরাবর ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে অ্যাম্বুল্যান্স ও দমকলের মতো আপৎকালীন পরিষেবা। ভিড়ের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া পুণ্যার্থীদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওড়িশা পুলিশ দুপুর ১টা নাগাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে জানায়, সকাল থেকে ৩৩ জন ভক্তকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁদের অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আগে সকাল ১১টা নাগাদ অপর এক ভক্ত ভিড়ের মধ্যে পড়ে জ্ঞান হারালে পুলিশ তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
বিগত বছরের বিশৃঙ্খলার স্মৃতি
গত বছরও পুরীর রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২৯ জুন ভোরে গুণ্ডিচা মন্দিরের কাছে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় অন্তত তিন জনের মৃত্যু হয়েছিল। মূল মন্দির থেকে গুণ্ডিচা মন্দিরের দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার হলেও সেবার তিনটি রথ নির্দিষ্ট দিনে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি এবং পরের দিন পৌঁছালেও বিগ্রহগুলি নামানো সম্ভব হয়নি।
রাতভর রথ ঘিরে থাকা ভক্তরা ভোরবেলা পুলিশ ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রথের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনাটি ঘটে। ওড়িশা সরকারের দাবি ছিল, অপ্রত্যাশিত ভিড়ের কারণেই সেবার বিপর্যয় ঘটেছিল। অন্য দিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও শ্রীমন্দির সূত্রের খবর ছিল, রথ সংলগ্ন ঘেরাটোপের ভেতর অতিরিক্ত মানুষকে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার কারণেই এই মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
এ বছরও যাতে তেমন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য ওড়িশা পুলিশ ও প্রশাসন তৎপর রয়েছে এবং ভক্তদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সব রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

