রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক পরিচিতি সরিয়ে রেখে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে পথ চলা শুরু করল কলকাতার অন্যতম নামী পুজো শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। দীর্ঘ দিন ধরে এই পুজোর মূল কাণ্ডারি হিসেবে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর নাম জড়িত থাকলেও, পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ানোর জেরে তিনি বর্তমানে শ্রীঘরের বাসিন্দা। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রথযাত্রার পুণ্য তিথিতে খুঁটি পুজোর মাধ্যমে ৫৪তম বর্ষের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হলো, এবারের পুজো সুজিত বসুর নয়, বরং তা পরিচিত হবে ‘শ্রীভূমির অধিবাসীবৃন্দের পুজো’ হিসেবে।
তারকাদের অভাব ঢাকল পাড়াবাসীর আবেগ
অন্যান্য বছরের মতো এবার খুঁটি পুজোর অনুষ্ঠানে তারকাদের চেনা জৌলুস বা চাঁদের হাট দেখা যায়নি। তবে সেলিব্রিটিদের সেই খামতি ঢেকে দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও বাঁধভাঙা উৎসাহ-উদ্দীপনা। উৎসবের সূচনা লগ্ন থেকেই উদ্যোক্তারা বারবার এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন যে, লেকটাউনের এই পুজো আর কোনো একক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে বা পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে পাড়ার প্রতিটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একজোটে মায়ের আরাধনা করাই এবার শ্রীভূমির মূল লক্ষ্য।
৫৪তম বর্ষের থিম রাজস্থানের ‘হাওয়া মহল’
ব্যক্তিকেন্দ্রিক তকমা ঝেড়ে ফেললেও শ্রীভূমির চিরাচরিত ঐতিহ্য এবং জৌলুসে যে কোনো খামতি থাকবে না, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন পুজো কমিটির সদস্যরা।
- মণ্ডপসজ্জা: এবারের ৫৪তম বর্ষে শ্রীভূমির মণ্ডপ গড়ে উঠবে রাজস্থানের ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যের বিস্ময় ‘হাওয়া মহল’-এর আদলে।
- প্রস্তুতি: মণ্ডপে যাতে হাওয়া মহলের নিখুঁত প্রতিরূপ ফুটিয়ে তোলা যায়, তার জন্য ইতিমধ্যেই শিল্পী ও পুজো প্রতিনিধিরা রাজস্থানে গিয়ে মূল স্থাপত্যের নকশা ও কারুকার্য খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করে এসেছেন। দর্শনার্থীরা মণ্ডপে পা রাখলেই এক টুকরো রাজস্থানের আবহ অনুভব করতে পারবেন বলে উদ্যোক্তাদের দাবি।
চার দিনের উৎসব ও এলাকাবাসীর ভূরিভোজ
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এবারের উৎসব দীর্ঘায়িত না করে মূলত চার দিন ধরেই মূল উৎসবের আয়োজন করা হবে। উৎসবের দিনগুলিতে পাড়ার বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা থাকছে, যেখানে সকালের জলখাবার থেকে শুরু করে দুপুর ও রাতের আহারের দায়িত্ব নেবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
পাশাপাশি, প্রতি বছর শ্রীভূমির পুজোকে কেন্দ্র করে লেকটাউন ও ভিআইপি রোড এলাকায় যে তীব্র যানজট ও দর্শনার্থীদের ভিড়ের সমস্যা তৈরি হয়, তা নিয়ে এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের যাতে কোনো রকম দুর্ভোগ বা যাতায়াতের অসুবিধা না হয়, সে বিষয়ে পুজো কমিটি কড়া নজর রাখবে বলে আশ্বস্ত করেছে।
সুজিত বসুর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, এলাকার সাধারণ মানুষের এই সর্বজনীন অংশগ্রহণ এবং যৌথ প্রচেষ্টার জেরে শ্রীভূমির দুর্গাপুজো এবারও রাজ্যের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস বর্তমান আয়োজকদের।

