প্রকাশ্য রাস্তায় এক দশম শ্রেণির ছাত্রীকে ছুরি মেরে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। বুধবার সন্ধ্যায় হাওড়ার আন্দুলের খটির বাজার চাঁদনিবাগান এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রকাশ্য রাস্তায় হামলা, অভিযুক্তকে গণপিটুনি
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরী দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। বুধবার সন্ধ্যায় সে যখন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, তখনই আচমকা সমীর দাস নামের এক যুবক তার ওপর চড়াও হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাস্তায় লোকজনের উপস্থিতিতেই পকেট থেকে ছুরি বের করে ওই ছাত্রীকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে সমীর। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই কিশোরী রাস্তাতেই লুটিয়ে পড়ে।
এই নৃশংস ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে উঠেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন উপস্থিত পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত সমীর দাসকে ধরে ফেলেন। এরপর উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দেয়।
ঘটনাস্থলে ডোমজুড় থানার পুলিশ
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত চাঁদনিবাগান এলাকায় পৌঁছায় ডোমজুড় থানার পুলিশ বাহিনী। পুলিশ রক্তাক্ত ছাত্রীকে উদ্ধার করে দ্রুত হাওড়ার একটি হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, গণপিটুনিতে গুরুতর জখম অভিযুক্ত সমীর দাসকেও উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। বর্তমানে সে পুলিশি নজরদারিতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নেপথ্যে কি প্রেমঘটিত কারণ? তদন্তে পুলিশ
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক সমীর দাসের আদি বাড়ি বীরভূম জেলায়। তবে সে কর্মসূত্রে বেশ কিছুদিন ধরে হাওড়াতেই বসবাস করছিল।
তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে: “অভিযুক্ত যুবক কেন আচমকা ওই নাবালিকার ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলা চালাল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মৃত কিশোরীর সঙ্গে সমীরের আগে থেকে কোনো আলাপ ছিল কি না, কিংবা এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো প্রেমঘটিত জটিলতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।”

