ফুটবল বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া বনাম আলজেরিয়া ম্যাচকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক থামার লক্ষণ নেই। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দুই দলের খেলা ৩-৩ গোলে ড্র হওয়ার পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। এই ড্রয়ের ফলে দুই দলই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে এবং টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছে ইরান। আর তাতেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে দুই দলের দিকে। ফুটবল মহলের একাংশের ধারণা, ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিতেই অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া নিজেদের মধ্যে ‘গোপন বোঝাপড়া’ বা ফিক্সিং করেছিল। এবার এই হাই-ভোল্টেজ বিতর্ক নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন আলজেরিয়ার অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ।
ম্যাচে অস্ট্রিয়ার ভূমিকা নিয়ে মাহরেজের সংশয়
অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে এই হাই-স্কোরিং ম্যাচে আলজেরিয়ার হয়ে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ। যার মধ্যে একটি গোল আসে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ ইনজুরি টাইমে (সংযুক্তি সময়)। ম্যাচের পর অস্ট্রিয়ার কৌশল নিয়ে কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্বয়ং আলজেরীয় অধিনায়ক। তাঁর ইঙ্গিত, ম্যাচ জেতার জন্য অস্ট্রিয়া মাঠে যতটা গা-ছাড়া ভাব দেখিয়েছিল, তা বেশ নজিরবিহীন।
মাহরেজ বলেন:
“সত্যি বলতে, মাঠে পরিস্থিতিটা বেশ অদ্ভুতই লেগেছে। আমরা যেখানে বল নিয়ে গোটা মাঠ জুড়ে খেলছিলাম, সেখানে ওরা (অস্ট্রিয়া) যেন একই জায়গায় আটকে ছিল। জেতার জন্য ওদের মধ্যে তেমন তাগিদ দেখা যায়নি।”
ইনজুরি টাইমের গোল ও ‘ফুটবলীয় সততা’
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নিজের করা বিতর্কিত গোলটি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মাহরেজ জানান, গোল করার ক্ষেত্রে তাঁর কাছে কোনো বিকল্প ছিল না। তিনি বলেন, “শেষ মিনিটে আমার কাছে একটা পাস চলে এসেছিল। তখন আমাকে বল নিয়ে দৌড়তেই হতো। কারণ দিনশেষে ফুটবল খেলাটার প্রতি তো একটা সম্মান বা সমীহ থাকতে হবে। বল যখন গোলকিপারের সামনে চলে এসেছিল, তখন স্ট্রাইকার হিসেবে গোল করাটাই আমার দায়িত্ব ছিল। আমি জানি, এই গোলের পর পরিস্থিতিটা সবার জন্যই খুব অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।”
খেলার নিয়মকে শ্রদ্ধা জানাতেই তিনি গোলটি করেছিলেন বলে দাবি করেন মাহরেজ। তিনি আরও যোগ করেন, “আমি জানি এই গোল বা ম্যাচের ফলাফল নিয়ে চারদিকে প্রচুর আলোচনা ও বিতর্ক হচ্ছে। কিন্তু কী করব বলুন? গোলের সুবর্ণ সুযোগ চলে আসলে তো গোল করতেই হবে।”
দুই দলেরই নকআউটে পৌঁছানোয় স্বস্তি
ম্যাচটি ড্র হওয়ায় এবং ইরান বিদায় নেওয়ায় মাঠের বাইরে যতই বিতর্ক হোক না কেন, আলজেরীয় অধিনায়ক সামগ্রিক ফলাফলে খুশি। অস্ট্রিয়ার কামব্যাক এবং দুই দলেরই পরের রাউন্ডে যাওয়া প্রসঙ্গে মাহরেজ বলেন, “তবে একটা জিনিস ভালো হয়েছে যে, পরে অস্ট্রিয়াও গোল পরিশোধ করেছে এবং যোগ্যতা অর্জন (কোয়ালিফাই) করেছে। শেষ পর্যন্ত দুই দেশই নকআউটে পৌঁছাতে পেরেছে, এটাই সবচেয়ে ভালো ব্যাপার।”
আপাতত দুই দলই নকআউটের টিকিট পেলেও, ইরানের বিদায় এবং এই ৩-৩ ড্রয়ের ধরনকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে যে বিতর্কের ঝড় উঠেছে, তা সহজে থামছে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

