দেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির ওপর পেট্রল এবং ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে আরোপিত সমস্ত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ১ জুলাই, বুধবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে চলেছে। বিশ্ব বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোমবার কেন্দ্রের তরফে একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়েছে বলে সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর।
বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপট ও মূল কারণ
চলতি মাসের ১১ জুন কেন্দ্রের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে একলপ্তে বেশি পরিমাণ জ্বালানি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল:
“দেশে খুচরো ও বাল্ক (পাইকারি) মূল্যের পার্থক্যের কারণে শিল্প, বাণিজ্যিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক উপভোক্তারা পেট্রল পাম্পমুখী হচ্ছেন। এর ফলে দেশের কিছু অংশে খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে পেট্রল এবং হাইস্পিড ডিজেলের বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।”
আসলে, পাইকারি বা বাল্ক ক্রেতাদের জন্য তেলের দাম খুচরো গ্রাহকদের তুলনায় বেশ কিছুটা চড়া থাকে। ফলে খরচ বাঁচাতে বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি সাধারণ পেট্রল পাম্প থেকে কম দামে বিপুল পরিমাণ তেল কিনতে শুরু করে। এই প্রবণতা ও কালোবাজারি রুখতেই নরেন্দ্র মোদী সরকার তড়িঘড়ি ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও সরবরাহ সংকট
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক সংকটের জেরে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়েছিল, যার প্রভাব পড়ে ভারতের বাজারেও। ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগই আমদানি করে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার পর ভারতের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তীব্র উৎকণ্ঠা তৈরি হয় এবং দেশের বাজারে পেট্রল-ডিজেলের চাহিদা হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
যদিও কেন্দ্রের তরফে বারবার আশ্বস্ত করে বলা হয়েছিল যে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং রান্নার গ্যাস বা তেলের সরবরাহ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই।
বর্তমান স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিকের পথে বাজার
খবরে প্রকাশ, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতাপত্র (MoU) স্বাক্ষরিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত না হলেও, বর্তমানে বেশির ভাগ পণ্যবাহী জাহাজ কোনো বড়সড় অসুবিধা ছাড়াই চলাচল করতে পারছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের এই ইতিবাচক পরিবর্তন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেই দেশীয় বাজারে জ্বালানি কেনাবেচার ওপর চাপানো বিধিনিষেধ একে একে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে আগামী বুধবার থেকে শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি আগের মতোই স্বাভাবিক নিয়মে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবে।

