পদ্মসম্মান প্রাপ্তির মাঝেই অলকা যাজ্ঞিকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, ‘সেন্সরিনিউরাল হিয়ারিং লস’ ও বার্ধক্যজনিত ক্লান্তি নিয়ে মুখ খুললেন গায়িকা

পদ্মসম্মান প্রাপ্তির মাঝেই অলকা যাজ্ঞিকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, ‘সেন্সরিনিউরাল হিয়ারিং লস’ ও বার্ধক্যজনিত ক্লান্তি নিয়ে মুখ খুললেন গায়িকা

দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘পদ্মসম্মান’-এ ভূষিত হয়েছেন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী অলকা যাজ্ঞিক। কিন্তু এই সুখবরের মাঝেই গায়িকার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও তীব্র দুশ্চিন্তায় ফেলেছে তাঁর অগুনতি অনুরাগীকে। ষাটোর্ধ্ব এই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীর শারীরিক অসুস্থতা এবং জনসমক্ষ থেকে তাঁর দীর্ঘদিন দূরে থাকার কারণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

হুইলচেয়ারে অলকা: অনুরাগীদের উদ্বেগ ও গায়িকার ব্যাখ্যা

পদ্মসম্মান নিতে যাওয়ার সময় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গায়িকাকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর পরেই তাঁর ভক্তদের মনে পড়ে যায় বিগত ২০২৪ সালের একটি ঘটনার কথা, যখন অলকা নিজেই এক বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে শ্রবণশক্তি হারানোর কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন।

তবে সাম্প্রতিক এই ভিডিও নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় গায়িকা নিজেই একটি বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, পদ্মসম্মান প্রাপ্তির অনুষ্ঠানে তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত বোধ করছিলেন, আর সেই কারণেই হুইলচেয়ারের সাহায্য নিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলেও আশ্বস্ত করেছেন।

কী এই ‘সেন্সরিনিউরাল হিয়ারিং লস’?

বিগত ২০২৪ সালে অলকা যাজ্ঞিক জানিয়েছিলেন যে, একটি তীব্র ভাইরাস সংক্রমণের পর আচমকাই তিনি এক বিরল ধরনের শ্রবণজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সেন্সরিনিউরাল হিয়ারিং লস’ (Sensorineural Hearing Loss)।

  • এই রোগে কানের ভেতরের সূক্ষ্ম অংশ বা শ্রবণ স্নায়ু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • এর ফলে শব্দ শোনা এবং তা স্পষ্টভাবে বোঝার ক্ষমতা হ্রাস পায়।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি কোলাহলের মধ্যে আলাদা করে কারও কথা বুঝতে পারেন না এবং কানে একনাগাড়ে ‘ভোঁ ভোঁ’ শব্দ হতে থাকে।

চিকিৎসকদের মতে, শরীরের কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয় কর্মক্ষমতা হারালে তার নেতিবাচক প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক শরীরেও পড়তে শুরু করে। এই কারণেই ক্যামেরার সামনে আসার ইচ্ছে সাময়িকভাবে চলে গিয়েছিল গায়িকার।

বার্ধক্যের শারীরিক পরিবর্তন ও চিকিৎসকদের পরামর্শ

অলকা যাজ্ঞিকের এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রবীণ বয়সে স্বাস্থ্যের অবনতি রোধ করার উপায় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পেশির শক্তি, সহনশীলতা, শরীরের ভারসাম্য এবং চলাফেরার ক্ষমতা কমতে থাকে। ফলে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকলে দ্রুত ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক।

এই সময়ে নিরাপদে চলাফেরা ও স্বনির্ভর জীবনযাপনের জন্য লাঠি, ওয়াকার বা হুইলচেয়ারের মতো সহায়ক উপকরণ ব্যবহার করা অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। একে কোনোভাবেই দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে দেখা উচিত নয়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরকে সচল রাখার ৫টি মূল মন্ত্র:

চিকিৎসকেরা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শরীর ও মনকে ভালো রাখতে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন:

  1. নিয়মিত ব্যায়াম: পেশির শক্তি ও শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত হাঁটা এবং হালকা ব্যায়াম করা জরুরি।
  2. সুষম আহার: পর্যাপ্ত প্রোটিন, ক্যালশিয়াম, ভিটামিন ডি এবং পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা আবশ্যক।
  3. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: বয়স বাড়লে নিয়মিত ব্যবধানে চোখ, কান এবং সামগ্রিক শরীরের পরীক্ষা করানো উচিত।
  4. মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন: পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।
  5. সহায়ক যন্ত্রের ব্যবহার: প্রয়োজনে লাঠি, চশমা, হিয়ারিং এইড বা হুইলচেয়ারের মতো সহায়ক সামগ্রী ব্যবহারে দ্বিধাবোধ না করা।

শারীরিক ও মানসিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে সুরের সম্রাজ্ঞী অলকা যাজ্ঞিক দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠুন, এখন এটাই প্রার্থনা তাঁর অনুরাগীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.