মেসির রেকর্ড গড়া গোল নিয়ে তীব্র বিতর্ক: রেফারি ও ভিএআর-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পিটার স্মাইকেল

মেসির রেকর্ড গড়া গোল নিয়ে তীব্র বিতর্ক: রেফারি ও ভিএআর-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পিটার স্মাইকেল

তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ম্যাচ মানেই যেন মাঠ ও মাঠের বাইরে বিতর্কের এক নতুন অনুষঙ্গ। চলতি বিশ্বকাপে এবার খোদ মহাতারকা লিওনেল মেসির একটি ‘ঐতিহাসিক গোল’ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজের ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ ১৭টি গোলের মালিক হয়েছেন মেসি। তবে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর এই রেকর্ড গড়া গোলের বৈধতা নিয়েই এখন উঠেছে বড়সড় প্রশ্ন। নেটদুনিয়ায় ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ ফের ‘ফিফাস ফেভারিট চাইল্ড আর্জেন্টিনা’ (ফিফার প্রিয় সন্তান আর্জেন্টিনা) তত্ত্ব নিয়ে রেফারিদের অন্ধ পক্ষপাতিত্বের দিকে আঙুল তুলছেন।

কী ঘটেছিল অস্ট্রিয়া ম্যাচে?

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। পরের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে মেসির জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে জিতে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে থিয়াগো আলমাডার পাস থেকে একটি চমৎকার ফিল্ড গোল করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন মেসি।

তবে বিতর্কের সূত্রপাত এই গোলের ঠিক আগের মুহূর্তে, মাঝমাঠের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। গোলের আক্রমণের আবহ (Build-up) তৈরি হওয়ার সময় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার অস্ট্রিয়ার জাভের স্লাগেরকে পিছন থেকে একটি কড়া ট্যাকল করেন। সেখান থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে আক্রমণভাগে পাস বাড়ায় আর্জেন্টিনা, যা শেষ পর্যন্ত মেসির পায়ে গিয়ে জালে জড়ায়। ম্যাচ পরিচালনাকারী পোলিশ রেফারি শিমোন মারচিনিয়াকের চোখে যেমন এই ফাউলটি ধরা পড়েনি, তেমনই ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR)-ও এই বিষয়ে নীরব ছিল। ফুটবলপ্রেমীদের দাবি, সেখানে ফাউল বা ম্যাক অ্যালিস্টারকে কার্ড দেখানো হলে এই গোলের কোনো সুযোগই তৈরি হতো না।

“গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল”, সরব পিটার স্মাইকেল

লাইভ সম্প্রচার অনুষ্ঠানে এই গোলটির তীব্র সমালোচনা করেছেন ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক তথা ডেনমার্কের প্রাক্তন অধিনায়ক পিটার স্মাইকেল। রেফারির সিদ্ধান্তকে ‘স্পষ্ট ও বড় ভুল’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন:

“আমার মতে এই গোলটি সম্পূর্ণ বাতিল হওয়া উচিত ছিল। একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে ওরা কীভাবে পেনাল্টি বক্সে ঢুকেছিল। জাভের স্লাগেরকে পিছন থেকে লাথি মেরে ফেলে দিয়েছিল ম্যাক অ্যালিস্টার। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে অস্ট্রিয়ার পক্ষে ফ্রি-কিক দেওয়া উচিত ছিল এবং ভিএআর (VAR)-এর হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল। রেফারির এমন সিদ্ধান্তে আমি কিছুটা হতাশ।”

ফিফার কাছে আলজেরিয়ার লিখিত অভিযোগ

আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে রেফারিদের এই নমনীয় মনোভাবের অভিযোগ কেবল অস্ট্রিয়া ম্যাচেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলা আলজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনও ফিফার কাছে রেফারিদের বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ২৮ নম্বর দল আলজেরিয়ার দাবি— আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন লিওনেল মেসির একটি কড়া ট্যাকল এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের কনুই মারার ঘটনাসহ মোট তিনটি পৃথক ও গুরুতর ফাউল মাঠের রেফারি শিমোন মারচিনিয়াক এবং তাঁর ভিএআর টিমের নজর এড়িয়ে গেছে। একের পর এক ম্যাচে রেফারির এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগটি আরও জোরালো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.