বিগত সরকারের আমলে পুরুলিয়া পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের তৎকালীন নির্দেশিকার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে পুনরায় পুরনো বোর্ডকে বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই রায়ের ফলে পুরুলিয়া পুরসভার পুরপ্রধান হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব ফিরে পাচ্ছেন নবেন্দু মাহালি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রাজ্য সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে পুরুলিয়া পুরসভার বোর্ড ভেঙে দিয়েছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৎকালীন সরকারের ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন পুরসভার কাউন্সিলর রবিশঙ্কর দাস এবং নবেন্দু মাহালি। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই এই রায় দিল আদালত।
শো-কজ বিতর্ক ও বোর্ড ভাঙার নেপথ্য কাহিনী
তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে পুরুলিয়া পুরসভার কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর পুরসভাকে একটি ‘শো-কজ’ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) নোটিশ পাঠিয়েছিল। সেই সময় অভিযোগ ওঠে, পুরসভার তৎকালীন পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি কোনো বোর্ড বৈঠক না-ডেকেই একক সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই শো-কজের জবাব দিয়েছিলেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়। এর পরপরই তৎকালীন সরকার পুরুলিয়া পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং পুরসভার সমস্ত কাজ পরিচালনার জন্য একজন সরকারি প্রশাসক নিয়োগ করে। পুরপ্রশাসক (অ্যাডমিনিস্ট্রেটর) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মহকুমাশাসক (সদর) উৎপলকুমার ঘোষকে।
বিজ্ঞপ্তি খারিজ আদালতের, প্রতিক্রিয়া নবেন্দুর
তৎকালীন সরকারের এই হস্তক্ষেপকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ক্ষুব্ধ কাউন্সিলররা। মামলাকারীদের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে সওয়াল করেন। শুনানি শেষে আদালত পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের জারি করা সেই বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়। এর ফলে আইনিভাবে পুরপ্রধানের চেয়ারে বসার অধিকার ফিরে পান নবেন্দু মাহালি।
আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে নবেন্দু মাহালি একে তাঁর ‘নৈতিক জয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে জয়লাভের পরই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর বর্তমান দূরত্বের কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। নবেন্দুর কথায়:
“এটা আমাদের নৈতিক জয়। তবে আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই, যে দিন অন্যায্যভাবে আমাদের পুরবোর্ড ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, ঠিক সে দিনই আমি তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলাম। এখন আর তাদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”
আইনজীবীদের মতে, আদালতের এই রায়ের ফলে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বোর্ডকে আমলাতান্ত্রিক উপায়ে ভেঙে দেওয়ার প্রবণতা ধাক্কা খেল এবং পুরুলিয়ায় পুনরায় জনপ্রতিনিধিদের বোর্ডের শাসন কায়েম হলো।

