অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডুর পুত্র তথা সে রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী নারা লোকেশের সঙ্গে কলকাতায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সারলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতায় আয়োজিত একটি বিশেষ নৈশভোজে দুই রাজ্যের নেতার এই সাক্ষাৎ হয়। নারা লোকেশকে শহরে সাদর অভ্যর্থনা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বৈঠক শেষে অন্ধ্রের মন্ত্রীর হাতে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিমণ্ডিত দুটি বিশেষ স্মারক উপহার হিসেবে তুলে দেন তিনি।
উপহারে ভক্তি আন্দোলন ও প্রাচীন নৌ-বাণিজ্যের ইতিহাস
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া উপহার দুটির পেছনে রয়েছে গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য। নারা লোকেশের হাতে তিনি তুলে দেন মহাপ্রভু চৈতন্যদেবের একটি ‘ষড়ভুজ’ পটচিত্র এবং শোলাপিঠের তৈরি একটি নৌকা।
১. চৈতন্যদেবের ‘ষড়ভুজ’ পটচিত্র: এই পটচিত্রটিতে পশ্চিমবঙ্গ ও অন্ধ্রপ্রদেশের ভক্তি আন্দোলনের ঐতিহাসিক সংযোগের বার্তা রয়েছে। স্মারকটিতে ফুটিয়ে তোলা চৈতন্যদেবের ছয়টি হাতের উপরের দুটিতে রয়েছে শ্রীরামের তির-ধনুক, মাঝের দুটিতে শ্রীকৃষ্ণের মোহন বাঁশি এবং নিচের দুটিতে রয়েছে সন্ন্যাসদণ্ড ও কমণ্ডলু।
- শিল্পী ও শিল্পকলা: পটচিত্রটি তৈরি করেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার নয়াগ্রামের বিশিষ্ট পটুয়া শিল্পী স্বর্ণলতা চিত্রাকর। সম্পূর্ণ ভেষজ ও প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে এই ধরনের পটচিত্র তৈরিতে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী।
২. শোলাপিঠের নৌকা: সূক্ষ্ম কারুকার্যে ভরা এই শোলার নৌকাটির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ শিল্পীদের সৃষ্টিকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরার প্রয়াস করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এর একটি বড় ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।
- ঐতিহাসিক গুরুত্ব: আজ থেকে প্রায় দুই হাজার বছর আগে অবিভক্ত মেদিনীপুরের প্রাচীন তাম্রলিপ্ত (বর্তমান তমলুক) বন্দরের সাথে অন্ধ্রপ্রদেশের মুসলিপত্তনমের যে সমৃদ্ধ নৌ-বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল, এই শোলার নৌকাটি মূলত সেই প্রাচীন ইতিহাসকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
দুই রাজ্যের এই শীর্ষস্তরের সাক্ষাৎ এবং উপহার আদান-প্রদান রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উভয় দিক থেকেই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

