‘গুলশন কলোনি’র জনক পুরী থেকে ধৃত কাউন্সিলর সুশান্ত! আদালতে দাবি রাজ্যের, ১০ দিনের পুলিশি হেফাজত

‘গুলশন কলোনি’র জনক পুরী থেকে ধৃত কাউন্সিলর সুশান্ত! আদালতে দাবি রাজ্যের, ১০ দিনের পুলিশি হেফাজত

তোলাবাজি ও বেআইনি জমি দখলের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। বুধবার ওড়িশার পুরী থেকে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আলিপুর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আগামী ২৮ জুন পর্যন্ত তাঁকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

আদালতে শুনানির সময় রাজ্য সরকারের আইনজীবী সুশান্ত ঘোষকে ‘গুলশন কলোনির জনক’ বলে অভিহিত করেন।

কসবা ও গুলশন কলোনিকে অশান্ত করার অভিযোগ

আদালতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সুশান্তের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছিল। সরকারি আইনজীবী সওয়াল করতে গিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কসবা এবং সংলগ্ন এলাকাকে অশান্ত করে তুলেছেন এই প্রাক্তন কাউন্সিলর। সায়েন্স সিটির নিকটবর্তী ‘গুলশন কলোনি’, যা অতীতে একাধিক বেআইনি নির্মাণ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণে খবরের শিরোনামে এসেছিল, তার নেপথ্যে সুশান্ত ঘোষের মূল ভূমিকা ছিল বলে দাবি করে রাজ্য।

তদন্তে উঠে আসা সুশান্তের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলি:

  • হকারদের থেকে কোটি টাকার তোলাবাজি: অভিযোগ, পুনর্বাসনের জন্য স্টল দেওয়ার নাম করে কসবা এলাকার অন্তত ৯৫০ জন হকারের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন সুশান্ত। আনন্দপুর থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়েছেন তিনি।
  • সরকারি জমি দখল: বহু ক্ষেত্রে সরকারি খাস জমিকে অন্যের সম্পত্তি দেখিয়ে বেআইনিভাবে কোটি কোটি টাকায় বিক্রি বা লিজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
  • বেনামি সম্পত্তি: তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সুশান্ত ঘোষের নিজস্ব ও বেনামি সম্পত্তির পরিমাণ কয়েকশো কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

ওড়িশা পর্যন্ত ধাওয়া করে গ্রেপ্তার

সম্প্রতি ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের হকার্স কমিটির কয়েকজন সদস্য আনন্দপুর থানার দ্বারস্থ হন। সুশান্তের বিরুদ্ধে মোট চারটি পৃথক এফআইআর (FIR) দায়ের হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, মামলা রুজু হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেন এই প্রাক্তন কাউন্সিলর।

কলকাতা পুলিশের একটি দল ওড়িশা পর্যন্ত সুশান্তকে ধাওয়া করে। মাঝপথে নিজের গাড়িটি ফেলে রেখে পুলিশকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। সেই সময় তাঁর গাড়ি থেকে চালক সুজিত চৌধুরীকে পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে তল্লাশি আরও জোরদার করে বুধবার পুরীর একটি গোপন ডেরা থেকে সুশান্ত ঘোষকে পাকড়াও করে এসটিএফ।

রাজনৈতিক অবস্থান ও পটভূমি

সুশান্ত ঘোষ কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর এবং ১২ নম্বর বরো কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। গত মাসে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর তিনি বরো কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন। পরবর্তীতে কলকাতা পুরসভার পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়।

আপাতত সুশান্ত ঘোষকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তাঁর বিপুল সম্পত্তির উৎস এবং এই তোলাবাজি চক্রে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে জেরা শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.