বিধানসভার প্রথম বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই আড়াআড়ি বিভাজন স্পষ্ট হলো রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূলে। একদিকে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে রয়েছেন ৫৮ জন বিধায়ক, অন্যদিকে বাকি ১৪ জন বিধায়ক পৃথক দূরত্ব বজায় রেখে বসলেন বিরোধী বেঞ্চের অন্য অংশে। এই ‘কালীঘাটপন্থী’ তথা মমতাপন্থী শিবিরে দেখা গেছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের মতো হেভিওয়েটদের।
বৃহস্পতিবারে বিধানসভার এই নয়া সমীকরণকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘর থেকে ইতিবাচক আশ্বাস, দাবি কুণাল ঘোষের
বৃহস্পতিবার অধিবেশন চলাকালীন স্পিকারের বাঁ দিকের প্রথম আসনটি—যা সাধারণত বিরোধী দলনেতার জন্য বরাদ্দ থাকে—সেটি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের জন্য সংরক্ষিত ছিল বলে দাবি করেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
এ দিনই তৃণমূল বিধায়কদের একটি প্রতিনিধি দল (যার মধ্যে ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব, রহিম বক্সী, রুকবানুর রহমান এবং কুণাল ঘোষ) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরিষদীয়মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের উপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে বলে দাবি কুণালের।
বৈঠক শেষে উঠে আসা মূল দাবিগুলি:
- আলাদা ঘর ও আসন: বিধানসভায় মমতাপন্থী ১৪ জন বিধায়কের বসার জন্য পৃথক ঘর ও আসন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
- বক্তব্যের সময় বরাদ্দ: বিরোধী দলের জন্য বরাদ্দ সময় থেকে মুখ্য সচেতক যাতে এই ১৪ জন বিধায়ককেও বলার সুযোগ করে দেন, তার আশ্বাস মিলেছে।
“মুখ্যমন্ত্রীও বুঝতে পারছেন, আমরা স্পিকারের ছায়া। আমরা বিরোধী দলনেতার (ঋতব্রত) কাছে বলার সময় চাইতে যাব না। অন্য বিরোধী বিধায়কদের মতোই আমরাও সমানভাবে বলার সুযোগ পাব।” — কুণাল ঘোষ, তৃণমূল বিধায়ক
তিনি আরও যোগ করেন, তাঁরা বিধানসভায় একটি ‘গঠনমূলক’ বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চান এবং নতুন সরকারকে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া উচিত।
ঋতব্রতকে তীব্র আক্রমণ কুণাল ঘোষের
মুখ্যমন্ত্রী ও নয়া সরকারের প্রতি সদর্থক মনোভাব দেখালেও, বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক তথা বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন কুণাল ঘোষ।
বৃহস্পতিবার রাজ্যপালের ভাষণে নারী নিরাপত্তা এবং মহিলাদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়। সেই প্রসঙ্গ টেনেই ঋতব্রতের অতীত বিতর্কের দিকে ইঙ্গিত করেন কুণাল। তিনি স্পষ্ট জানান, ঋতব্রতের বিরুদ্ধে যদি উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে রাজ্যপালের এই ভাষণের কোনো গুরুত্ব থাকবে না।

