আইনি জটিলতা যেন কিছুতেই কাটছে না হুগলির চুঁচুড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের। রাস্তা অবরোধ ও তোলাবাজির পর এবার তাঁর বিরুদ্ধে যুক্ত হলো শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ। শুক্রবার চুঁচুড়া আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক প্রবীণ এই রাজনীতিককে আরও ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৯ জুন।
ঘটনার সূত্রপাত ও প্রথম গ্রেপ্তার
দলীয় সূত্রে খবর, সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেনস্থার প্রতিবাদে চুঁচুড়ায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন অসিত মজুমদার এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। সেই ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা রুজু করে অসিতবাবুসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে।
জামিনের টানাপোড়েন ও নতুন অভিযোগ
বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে ধৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের জামিন মঞ্জুর করে আদালত। তবে অসিত মজুমদার, চুঁচুড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহা এবং তৃণমূল নেতা মির্জা সানোয়ারের বিরুদ্ধে নতুন করে একটি তোলাবাজির মামলা যুক্ত হওয়ায় তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
শুক্রবার পুনরায় শুনানির পর আদালত পার্থ সাহা ও মির্জা সানোয়ারের জামিন মঞ্জুর করলেও, অসিত মজুমদারের ওপর নেমে আসে নতুন আইনি ধাক্কা। ২০২৩ সালের একটি পুরনো মামলায় তাঁর নাম যুক্ত করা হয়।
ধর্ষণের চেষ্টার মামলা ও আদালতের নির্দেশ
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, চুঁচুড়া পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক যুবতী অসিত মজুমদারের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় নাম রয়েছে প্রাক্তন বিধায়কেরও। এই নতুন অভিযোগের প্রেক্ষিতেই শুক্রবার আদালত তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ করে ১৯ জুন পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
‘ভগবান বিচার করবেন’, মন্তব্য প্রাক্তন বিধায়কের
আদালত থেকে সংশোধনাগারে যাওয়ার পথে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের ক্ষোভ ও অসহায়তা প্রকাশ করেন প্রবীণ এই রাজনীতিক। অসিত মজুমদার বলেন:
“আমার কিছু বলার নেই। ভগবান আছেন, বিচার হবে। বিচার-ব্যবস্থা আছে, সব দেখবে তারা।”
রাজনৈতিক বিক্ষোভ থেকে শুরু করে তোলাবাজি এবং সবশেষে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ— একের পর এক মামলায় জড়িয়ে আপাতত জেলেই দিন কাটতে চলেছে চুঁচুড়ার এই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের।

