এবারের বিধানসভা নির্বাচনের সবথেকে চর্চিত কেন্দ্র ভবানীপুরে চলছে স্নায়ুচাপের লড়াই। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে ভোটগণনার শুরু থেকেই দফায় দফায় পাল্টেছে সমীকরণ। সোমবার সকাল থেকে টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে প্রতি রাউন্ডে ব্যবধানের ওঠা-নামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গণনার গতিপ্রকৃতি: একবার মমতা, একবার শুভেন্দু
সকাল থেকেই ভবানীপুরে শুরু হয় হাড্ডাহাড্ডি টক্কর। পোস্টাল ব্যালটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে থাকলেও, গণনার শুরুর দিকে তিনি এক সময় ১,৫৫৪ ভোটে পিছিয়ে পড়েন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল নেত্রী পুনরায় লিড নিতে শুরু করেন।
- ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে: ব্যবধান পৌঁছেছিল প্রায় ১৯,৩৯৩ ভোটে।
- দশম রাউন্ড থেকে পরিস্থিতি বদল: দশম রাউন্ডের পর থেকেই বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী ব্যবধান কমাতে শুরু করেন।
- দ্বাদশ রাউন্ড শেষে: সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ১২ রাউন্ড গণনা শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাপ্ত ভোট ৭১,৮৪০ এবং তাঁর লিড কমে দাঁড়িয়েছে ৭,১৮৪ ভোটে।
আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু: “১০ রাউন্ডের পর হারানো মুশকিল”
গণনাকেন্দ্র ও নিজাম প্যালেসের দফতর পরিদর্শনের ফাঁকে শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শুরুর দিকের রাউন্ডগুলোতে মুসলিম প্রধান বুথ বেশি থাকায় তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও, পরবর্তী রাউন্ডগুলিতে ছবিটা বদলে যাবে।
শুভেন্দুর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:
“১০ রাউন্ডের পর আমাকে হারানো মুশকিল হয়ে যাবে। হিন্দু বুথগুলিতে মানুষ পদ্মের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। প্রাথমিক আভাসে স্পষ্ট যে সরকার বিজেপিই গড়তে চলেছে।”
পাশাপাশি তিনি নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, সেখানে প্রথম রাউন্ডে তিনি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি অর্থাৎ ৩,০০০ ভোটের লিড পেয়েছেন। তাঁর মতে, ২০২১ বা ২০২৪-এর মতো সংখ্যালঘু ভোট এবার এককভাবে তৃণমূলের ঝুলিতে যায়নি, বরং মালদহ ও মুর্শিদাবাদের কিছু অংশে তা কংগ্রেসের দিকেও ভাগ হয়েছে।
ভবানীপুরের বর্তমান চিত্র (রাউন্ড ভিত্তিক আপডেট)
| রাউন্ড | মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাপ্ত ভোট | শুভেন্দু অধিকারীর প্রাপ্ত ভোট | ব্যবধান |
| তৃতীয় | ৯,৩৫৯ | ৮,৪৬১ | ৮৯৮ (তৃণমূল এগিয়ে) |
| সপ্তম | ৩২,৮২২ | ১৫,৪৫১ | ১৭,০০০+ (তৃণমূল এগিয়ে) |
| একাদশ | ৪২,৭৯৬ | ৩৩,৩২৯ | ৯,৪৬৭ (তৃণমূল এগিয়ে) |
| দ্বাদশ | – | – | ৭,১৮৪ (তৃণমূল এগিয়ে) |
বিকেল গড়াতেই ব্যবধান যেভাবে কমতে শুরু করেছে, তাতে ভবানীপুরের শেষ হাসি কে হাসবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। নিজাম প্যালেস থেকে ফের গণনাকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে তৃণমূল শিবিরও সতর্কভাবে প্রতিটি রাউন্ডের ওপর নজর রাখছে।

