আইপিএলের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে অবশেষে তাদের চেনা আক্রমণাত্মক মেজাজে পাওয়া গেল। দলের নিয়মিত ওপেনার রোহিত শর্মার অনুপস্থিতিতেও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে রানের পাহাড় গড়ল হার্দিক পাণ্ড্যের দল। ওপেনার রায়ান রিকলটনের রেকর্ডগড়া শতরানের সৌজন্যে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৪৩ রান সংগ্রহ করেছে মুম্বই।
বিধ্বংসী ওপেনিং ও রিকলটনের দাপট: টস জিতে এদিন প্রথমে ব্যাটিং করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্য। ইনিংসের শুরু থেকেই হায়দরাবাদের বোলারদের ওপর চড়াও হন দুই ওপেনার উইল জ্যাকস এবং রায়ান রিকলটন। জ্যাকস ২২ বলে ৪৬ রানের (৫টি চার ও ৩টি ছক্কা) ঝোড়ো ইনিংস খেলে বিদায় নিলেও, অন্যপ্রান্তে অবিচল ছিলেন রিকলটন।
সূর্যকুমার যাদব (৫) এবং নমন ধীর (২২) দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরলেও রিকলটনকে থামাতে পারেনি হায়দরাবাদের বোলিং ব্রিগেড। মাত্র ৪৪ বলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি, যা আইপিএলের ইতিহাসে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে দ্রুততম শতরানের নজির। শেষ পর্যন্ত ৫৫ বলে ১২৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর এই চোখধাঁধানো ইনিংসে ছিল ১০টি চার এবং ৮টি ছক্কার মার।
অধিনায়কের অবদান: মাঝের ওভারে রিকলটনের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলের রানকে মজবুত ভিত দেন অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্য। তিনি ১৫ বলে ৩১ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ২টি চার ও ২টি ছক্কা। শেষ দিকে তিলক বর্মা ৫ বলে ৭ রান করেন।
হায়দরাবাদের বোলিং বিপর্যয়: মুম্বইয়ের ব্যাটারদের দাপটে হায়দরাবাদের বোলাররা সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি। হর্ষ দুবে ৩ ওভারে খরচ করেন ৫০ রান। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ৩৯ রান দিয়েও কোনো উইকেটের দেখা পাননি। প্রফুল হিঙ্গে ৫৪ রানে ২ উইকেট নিলেও তা রান আটকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। এছাড়া এশান মালিঙ্গা, নীতীশ কুমার রেড্ডি এবং সাকিব হুসেন একটি করে উইকেট দখল করেন।
২৪৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হায়দরাবাদের ব্যাটাররা কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারেন, এখন সেটাই দেখার। তবে রিকলটনের এই ইনিংস মুম্বই সমর্থকদের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছে।

