প্রতিপক্ষ বোলার জসপ্রীত বুমরাহ হোন বা ভুবনেশ্বর কুমার— কারোর নাম বা ধারালো বোলিং পরোয়া করে না ১৫ বছরের কিশোর বৈভব সূর্যবংশী। বাইশ গজে তার ব্যাট কথা বলে ঝড়ের গতিতে। কিন্তু মাঠের সেই বিধ্বংসী ব্যাটারই মাঠের বাইরে অত্যন্ত সরল এক কিশোর, যে কি না সতীর্থদের হাতে ‘কেক মাখানো’র ভয়ে রীতিমতো সিঁটিয়ে থাকে। রাজস্থান রয়্যালসের জয়ের পর তেমনই এক মজাদার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
কেক কাটার বিভ্রাট: সম্প্রতি পঞ্জাব কিংসকে হারানোর পর হোটেলে ফিরে উল্লাসে মেতেছিল রাজস্থান রয়্যালস শিবির। ১৬ বলে ৪৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল ওপেনার বৈভব। প্রথা অনুযায়ী জয়ের নায়ক হিসেবে তাকেই কেক কাটতে বলা হয়। কিন্তু সেখানেই বাঁধে বিপত্তি। বৈভব সাফ জানিয়ে দেয় সে কেক কাটবে না।
দলের সিনিয়র সদস্য রবীন্দ্র জাডেজাকে অনুরোধ করে বৈভব বলে, “দাদা, তুমি কেক কাটো না।” জাডেজা পাল্টা তাকেই কাটতে বললে বৈভব তার ভয়ের আসল কারণটি ফাঁস করে দেয়। সে বলে, “আমি কেক কাটলেই ওরা আমার মুখে মাখিয়ে দেবে। তাই আমি কাটব না।” শেষে জাডেজার অভয়বাণীতে অবশ্য কাটে জটিলতা। জাডেজা তাকে টেনে এনে বলেন, “তুই কেক কাট। কেউ কিচ্ছু করবে না। আমি আছি।”
মাঠের বাইরে ‘কিশোর’, মাঠে ‘বিধ্বংসী’: বৈভবের এই সরলতা মন জয় করেছে নেটিজেনদের। কেউ বলছেন বাসে চড়ার সময় লাইট নিয়ে খেলা করা, আবার কেউ কেক কাটার ভয় দেখে বলছেন— মাঠের বাইরে সে সত্যিই ১৫ বছরের কিশোর। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা। মাঠের ভেতর সে যেন এক অন্য রূপ ধারণ করে।
চলতি আইপিএলে বৈভবের পারফরম্যান্স: ৯টি ম্যাচে বৈভবের সংগ্রহ ৪০০ রান। এ বারের আইপিএলে সে-ই প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৪০০ রানের গণ্ডি পার করল। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে এই বাঁহাতি ওপেনারের পারফরম্যান্স নজরকাড়া:
- রান: ৪০০
- গড়: ৪৪.৪৪
- স্ট্রাইক রেট: ২৩৮.০৯
- সেঞ্চুরি/হাফ-সেঞ্চুরি: ১টি শতরান ও ২টি অর্ধশতরান।
বর্তমানে অরেঞ্জ ক্যাপ বা কমলা টুপির দৌড়ে সবার উপরে রয়েছে বৈভব। তার এই অনবদ্য ফর্ম রাজস্থান রয়্যালসকে প্লে-অফের দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছে। মাঠের ভয়ডরহীন ক্রিকেট আর মাঠের বাইরের এই সরলতা— সব মিলিয়ে বৈভব সূর্যবংশী এখন আইপিএলের অন্যতম বড় আকর্ষণ।

