পশুপাখির গণ্ডি পেরিয়ে বার্ড ফ্লু বা অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস এখন মানুষের শরীরে হানা দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করেছে, যা বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ভাইরাসের দ্রুত রূপ পরিবর্তনের (মিউটেশন) ফলে পুরনো প্রতিষেধকগুলো আর কার্যকর হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে নতুন আশার আলো দেখিয়ে মেসেঞ্জার আরএনএ বা ‘এমআরএনএ’ (mRNA) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বার্ড ফ্লু প্রতিরোধী টিকা তৈরি করেছে আমেরিকার ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা মডার্না।
সংক্রমণের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি: অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, বিশেষত এইচ৫এন১ (H5N1) অত্যন্ত সংক্রামক। এতদিন এই ভাইরাসের প্রকোপ মূলত হাঁস, মুরগি ও পরিযায়ী পাখিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে ভাইরাসটি এমন ক্ষমতা অর্জন করেছে যে, আক্রান্ত পাখির হাঁচি, কাশি, লালা বা মলমূত্রের সংস্পর্শে এলে খুব সহজেই তা সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। খামারের কর্মী, কাঁচা মাংস বিক্রেতা এবং পোষ্য পাখি পালনকারীদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। পশ্চিমবঙ্গেও বার্ড ফ্লু ভাইরাসে মানুষের সংক্রমিত হওয়ার নজির চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মডার্নার নতুন টিকার কার্যকারিতা: ভাইরাসের এই দ্রুত রূপ পরিবর্তনের সাথে লড়াই করার জন্য মডার্না তাদের নতুন টিকা ‘এমআরএনএ-১০১৮’ (mRNA-1018) নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে এই টিকার অন্তিম বা তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। প্রায় চার হাজার ব্যক্তির ওপর এই টিকা পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। মডার্নার দাবি, এই টিকা কেবল বার্ড ফ্লু নয়, ইনফ্লুয়েঞ্জার আরও বেশ কিছু সংক্রামক উপধরনকে (Strain) কাবু করতে সক্ষম হবে। ভারতে বর্তমানে যে এইচ৫এন১ এবং এইচ৭এন৯ স্ট্রেনগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও এই টিকা কার্যকর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ট্রায়ালের ফলাফল সন্তোষজনক হলে খুব শীঘ্রই বাজারে টিকাটি আনার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের আবেদন জানানো হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বার্ড ফ্লু ভাইরাসের চরিত্র বদলে যাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে এই টিকা বিশ্বব্যাপী মহামারি প্রতিরোধের লড়াইয়ে এক শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে যেহেতু ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের এই প্রতিরূপ প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, তাই মডার্নার এই এমআরএনএ টিকা সফল হলে তা সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় এক বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। বাজারজাত হওয়ার আগে ট্রায়ালের সাফল্যই এখন চূড়ান্ত উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।

