তীব্র দাবদাহে নাভিশ্বাস জনজীবন, হিটস্ট্রোক এড়াতে সতর্কতার পরামর্শ চিকিৎসকদের

তীব্র দাবদাহে নাভিশ্বাস জনজীবন, হিটস্ট্রোক এড়াতে সতর্কতার পরামর্শ চিকিৎসকদের

বৈশাখের শুরুতেই চড়চড় করে বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। সকাল ১০টা পেরোনোর আগেই রোদের তীব্রতা এতটাই বাড়ছে যে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হিটস্ট্রোকের মতো মারণ সমস্যার ঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

হিটস্ট্রোক কেন হয়? মানুষের মস্তিষ্কের ‘হাইপোথ্যালামাস’ শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা (৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) নিয়ন্ত্রণ করে। প্রচণ্ড গরমে রক্তনালি প্রসারিত করে এবং ঘাম নিঃসরণের মাধ্যমে শরীর নিজেকে শীতল রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘক্ষণ থাকলে বা শরীরে জল ও খনিজের অভাব ঘটলে এই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা ‘থার্মোস্ট্যাট’ ভেঙে পড়ে। ফলে শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের উপরে উঠে গিয়ে হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে হার্টের ওপর চাপ পড়ে এবং মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্রাথমিক লক্ষণ ও বিপদ: হিটস্ট্রোকের লক্ষণ হিসেবে প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি ভাব, মানসিক বিভ্রান্তি এবং সিদ্ধান্তহীনতার মতো সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি জটিল হলে রোগী জ্ঞানও হারিয়ে ফেলতে পারেন।

চিকিৎসকদের পরামর্শ: তীব্র গরম থেকে বাঁচতে ও সুস্থ থাকতে চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার কিছু জরুরি সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:

  • বাইরে বেরোনোর নিয়ম: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যথাসম্ভব রোদে বেরোনো এড়িয়ে চলাই ভালো। একান্তই বেরোতে হলে ছাতা, সানগ্লাস ব্যবহার করুন এবং সুতির কাপড় দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখুন।
  • শীতল রাখার উপায়: গরম থেকে এসে সঙ্গে সঙ্গে খুব ঠান্ডা জল খাবেন না। বরং শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসার পর সাধারণ জল পান করুন। প্রয়োজনে দিনে দুবার স্নান করুন। বাইরে থেকে আসার পর ঘাড়, কানের পাশে বা বাহুমূলে আইসপ্যাক বা ভেজা তোয়ালে ব্যবহার করলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমবে।
  • জল ও খাদ্যতালিকায় বদল: ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত জল, ইলেকট্রোলাইট পানীয়, নুন-চিনির শরবত, ডাবের জল ও আখের রস পান করুন। ডায়েট চার্টে মশলাদার খাবারের পরিবর্তে রাখুন হালকা খাবার—যেমন মাছের ঝোল, লাউ, টক দই ও মরসুমি ফল।
  • স্বাস্থ্য সচেতনতা: শরীরে জলের অভাব হচ্ছে কি না তা বুঝতে প্রস্রাবের রঙের দিকে খেয়াল রাখুন। জ্বর এলে হুট করে কোনো ওষুধ না খেয়ে দুদিন অপেক্ষা করুন, সমস্যা না কমলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

দাবদাহে শুধুমাত্র দিনের বেলা নয়, রাতেও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং যারা দীর্ঘমেয়াদী বা ক্রনিক রোগে ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। এই চরম গরমের দিনে শরীরকে আর্দ্র ও শীতল রাখাই সুস্থ থাকার প্রধান চাবিকাঠি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.