হরমুজ প্রণালীতে শুরু মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ, ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালীতে শুরু মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ, ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বন্দরগুলিতে কঠোর অবরোধ শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। ফক্স নিউজ সূত্রে খবর, মার্কিন সময় সোমবার সকাল ১০টা (ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা) থেকে এই সামরিক অভিযান কার্যকর করা হয়েছে। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আয়োজিত শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

অবরোধ শুরুর প্রাক্কালে সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানকে চরম বার্তা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লেখেন, “ইরানের কোনো দ্রুতগামী আক্রমণকারী জাহাজ যদি আমাদের অবরোধের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করে, তবে সেগুলিকে তৎক্ষণাৎ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। এই আঘাত হবে দ্রুত এবং নির্মম।” এমনকি ইরানের নৌবাহিনী সমুদ্রের তলদেশে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অবরোধের পরিধি ও কৌশল

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) বিবৃতি অনুযায়ী, এই অবরোধ নির্দিষ্ট কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং ইরানের বন্দর কেন্দ্রিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম রুখতে প্রণয়ন করা হয়েছে।

  • নিশানা: আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানের যে কোনো বন্দরে প্রবেশকারী বা সেখান থেকে বহির্গামী সমস্ত জাহাজ আটকানো হবে।
  • ছাড়: যে সমস্ত পণ্যবাহী জাহাজ ইরানের বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করবে, তাদের জলপথে স্বাধীন চলাচলের অধিকারে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না মার্কিন বাহিনী।

শান্তি বৈঠক ব্যর্থ ও প্রেক্ষাপট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং আমেরিকা-ইসরায়েল জোটের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ ছিল। দিনকয়েক আগে দুই সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করে আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু পাকিস্তানে আয়োজিত সেই সমঝোতা বৈঠক ব্যর্থ হয়। অভিযোগ উঠেছে, ইরান ওই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের জন্য শুল্ক দাবি করেছিল, যা মানতে অস্বীকার করে আমেরিকা। ফলস্বরূপ, সোমবার থেকে পুনরায় সামরিক অবরোধের পথে হাঁটে ওয়াশিংটন।

ভারতের অবস্থান ও ইরানের আশ্বাস

হরমুজ প্রণালী ভারতের জ্বালানি আমদানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মাঝেও ভারত ‘বিশেষ ছাড়’ পাচ্ছিল। তবে ইরানের শুল্ক দাবির পর ভারতীয় জাহাজের ভাগ্য নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক অটুট রয়েছে। নয়াদিল্লির কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়েছে কি না, তা ভারত সরকারকেই জিজ্ঞাসা করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “ভারত ও ইরানের স্বার্থ অভিন্ন।”

মার্কিন এই অবরোধের ফলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.