পশ্চিমবঙ্গ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া সাধারণ মানুষের ভাগ্য নির্ধারণে পুরোদমে কাজ শুরু করল এসআইআর (SIR) ট্রাইব্যুনাল। জোকায় ডায়মন্ড হারবার রোডের উপর ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন’ ভবনে এই ট্রাইব্যুনালের সদর দফতর স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার থেকে ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতির তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে বিচার প্রক্রিয়া।
বিচার ব্যবস্থায় ১৯ প্রাক্তন বিচারপতি
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে খবর, বিচারকার্য পরিচালনার জন্য মোট ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ১৬ জনই সোমবার দফতরে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে রায় দিলেও, সোমবার থেকে কয়েক হাজার আবেদনপত্র নিয়ে বিচারকরা তাঁদের কাজ শুরু করেছেন। অনলাইনে এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জমা পড়া বিপুল সংখ্যক আবেদন খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনাল ভবন
মালদহের মোথাবাড়িকাণ্ড এবং বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থানের কথা মাথায় রেখে জোকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভবনটির দুটি গেটেই রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
- গেট নম্বর ১: এই গেটটি শুধুমাত্র প্রাক্তন বিচারপতি এবং নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের যাতায়াতের জন্য বরাদ্দ। আধিকারিকদের গাড়ির সঙ্গে রাজ্য পুলিশের পাইলট কার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কনভয় থাকছে।
- গেট নম্বর ২: মেটাল ডিটেক্টর সংবলিত এই গেট দিয়ে শুধুমাত্র ভবনের কর্মী ও নির্দিষ্ট আধিকারিকদের প্রবেশের অনুমতি রয়েছে। সংবাদমাধ্যম বা সাধারণ মানুষের প্রবেশ এখানে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
সাধারণের হয়রানি ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি
ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর খবর পেয়ে বহু মানুষ ব্যক্তিগতভাবে ট্রাইব্যুনাল দফতরে ভিড় জমাচ্ছেন। তবে কঠোর নিরাপত্তার কারণে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে। বেহালার বাসিন্দা সন্দীপ কর্মকার জানান, তাঁর দাদার নাম সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে তিনি এসেছিলেন, কিন্তু প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
যদিও বর্তমানে সরাসরি হাজিরা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবুও ভবিষ্যতের ভিড় সামলাতে ট্রাইব্যুনাল ভবনের পাশেই তৈরি হচ্ছে অস্থায়ী কাঠামো। বাঁশ ও কাপড় দিয়ে তৈরি এই শেড এবং অস্থায়ী শৌচাগারগুলি দেখে অনুমান করা হচ্ছে, আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে আবেদনকারীদের সরাসরি শুনানির জন্য ডাকার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় প্রভাব
ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু হওয়ায় জোকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের তৎপরতা লক্ষ্য করার মতো। প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই ভবনটিতে ট্রাইব্যুনাল আসায় আশাবাদী স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। মানুষের ভিড় বাড়লে ব্যবসায়িক লেনদেন বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
আপাতত কয়েক হাজার আবেদনের পাহাড় নিয়ে বাদ পড়া ভোটারদের নাম তালিকায় ফেরানোর আইনি লড়াই শুরু হলো এই বহুতল ভবনেই।

