রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজার মধ্যেই বড়সড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা পরিচালক বিনেশ চান্দেলকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। দিল্লির ইডি দপ্তর সূত্রে খবর, ‘বেআইনি আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ আইন’ (PMLA)-এর আওতায় তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তদন্তের প্রেক্ষাপট ও তল্লাশি অভিযান
২০২০ সালের নভেম্বরে সিবিআই-এর দায়ের করা একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে এই অর্থ পাচার মামলার তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। অভিযোগ, আসানসোলের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ECL) খনি থেকে কয়েক কোটি টাকার কয়লা চুরির চক্র চলত। ইডির দাবি, এই দুর্নীতির লভ্যাংশ একটি হাওয়ালা অপারেটরের মাধ্যমে আইপ্যাক-সংশ্লিষ্ট সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান পিএসি কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড’-এ পৌঁছেছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, প্রায় ২০ কোটি টাকা হাওয়ালা মারফত ওই সংস্থায় লেনদেন হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি কলকাতার আইপ্যাক দপ্তর ও সংস্থার অন্যতম পরিচালক প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে উপস্থিত হওয়া এবং নথিপত্র সরিয়ে ফেলার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিনেশ চান্দেলের গ্রেফতারির খবর প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে এক বার্তায় তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভীতিপ্রদর্শনের’ অভিযোগ তোলেন। অভিষেক লিখেছেন:
“পশ্চিমবঙ্গে ভোটের মাত্র ১০ দিন আগে আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলের গ্রেফতারি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী এবং প্রতিযোগিতার সমতার ধারণাকে আঘাত করে। যারা বিরোধীদের সঙ্গে কাজ করবে তাদেরই নিশানা করা হবে—এটি একটি শীতল বার্তা। এটি গণতন্ত্র নয়, ভীতিপ্রদর্শন।”
তদন্তের জাল ও আন্তর্জাতিক যোগসূত্র
ইডির তদন্তে উঠে এসেছে যে, কয়লা কেলেঙ্কারির টাকা যে হাওয়ালা অপারেটরের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে, তার সাথে দিল্লির আবগারি দুর্নীতিরও যোগসূত্র রয়েছে। এর আগে ২ এপ্রিল বিনেশ চান্দেলের দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর বাসভবন ছাড়াও আইপ্যাকের অপর এক পরিচালক ঋষি রাজ সিংহ এবং আম আদমি পার্টির প্রাক্তন যোগাযোগ সমন্বয়কারী বিজয় নায়ারের ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল।
আদালতের অবস্থান
প্রতীক জৈনের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতির বিষয়ে ইডির দায়ের করা মামলার শুনানি মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে হওয়ার কথা ছিল। তবে শীর্ষ আদালত এই শুনানি অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে। ফলে ভোটের মুখে আইপ্যাক কর্তার এই গ্রেফতারি যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে, তা বলাই বাহুল্য।

