বল বিকৃতিকে বৈধতা দেওয়ার দাবি: আইসিসি-র কাছে অভিনব আর্জি ইংরেজ ক্রিকেটার দাভিদ মালানের

বল বিকৃতিকে বৈধতা দেওয়ার দাবি: আইসিসি-র কাছে অভিনব আর্জি ইংরেজ ক্রিকেটার দাভিদ মালানের

ক্রিকেট মাঠে বল বিকৃতি বা ‘বল টেম্পারিং’ বরাবরই একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। আইসিসি এই অপরাধ রুখতে ক্রিকেটারদের বড় অঙ্কের জরিমানা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদী নির্বাসনের মতো কড়া শাস্তিও দিয়েছে। তবে এবার সেই বল বিকৃতিকেই নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে বৈধতা দেওয়ার জন্য আইসিসি-র কাছে অনুরোধ জানিয়ে বিতর্কের ঝড় তুললেন ইংরেজ ক্রিকেটার দাভিদ মালান।

‘বল খোঁটাখুঁটির অধিকার দেওয়া উচিত’

সম্প্রতি বিবিসির একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে মালান দাবি করেন, আধুনিক ক্রিকেটে ব্যাটার ও বোলারদের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, বল বিকৃতির ঘটনা ক্রিকেটে ঐতিহাসিককাল থেকেই চলে আসছে, তাই এটি পুরোপুরি বন্ধ করার চেষ্টা না করে বরং নিয়ন্ত্রিত উপায়ে বৈধ করা উচিত। মালান বলেন,

“ক্রিকেটাররা বছরের পর বছর ধরে বল বিকৃত করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। এটা নতুন কিছু নয়। আমার মনে হয় নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণে রেখে ক্রিকেটারদের বল খোঁটাখুঁটির অধিকার দেওয়া উচিত।”


রিভার্স সুইং ও ভারসাম্য রক্ষার যুক্তি

মালান তাঁর যুক্তিতে জানিয়েছেন, বর্তমানে বার বার বল পরিবর্তন এবং পিচের চরিত্র ব্যাটারদের জন্য সহায়ক হয়ে ওঠায় বোলারদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে রিভার্স সুইংয়ের অস্তিত্ব প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। তাঁর প্রস্তাবনাগুলো হলো:

  • নিয়ন্ত্রিত হস্তক্ষেপ: বাইরে থেকে আনা কোনো বস্তু (যেমন শিরীষ কাগজ বা বোতলের ছিপি) দিয়ে বল বিকৃত করা যাবে না।
  • প্রাকৃতিক কৌশল: ক্রিকেটাররা নিজেদের আঙুল বা নখ ব্যবহার করে কীভাবে বলের একপাশ খসখসে করবেন, সেই স্বাধীনতা তাঁদের দেওয়া উচিত।
  • উদ্দেশ্য: বোলাররা যাতে পুরনো বলে রিভার্স সুইং আদায় করতে পারেন এবং ম্যাচের শেষ দিকে ব্যাটারদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন।

বিপাকে বোলাররা: আইসিসি-র প্রতি বার্তা

ইংরেজ ক্রিকেটারের মতে, আইসিসি-র নিয়মকানুন বর্তমানে বোলারদের জন্য ক্রিকেটকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। ডেথ ওভারে ব্যাটারদের রুখতে রিভার্স সুইং এক সময় প্রধান অস্ত্র থাকলেও এখন তা প্রায় বিলুপ্ত। তাই ক্রিকেটের রোমাঞ্চ বজায় রাখতে বোলারদের জন্য আইসিসি-কে নতুন করে ভাবার অনুরোধ করেছেন তিনি।

মালানের এই বিতর্কিত মন্তব্য ক্রিকেট মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যেখানে আইসিসি ক্রিকেটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর, সেখানে একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের এই দাবি আদপে ক্রিকেটের সংজ্ঞাকে বদলে দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.