অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের প্রতিটি বুথেই এবার ১০০ শতাংশ ওয়েব কাস্টিং (Webcasting) করা হবে বলে জানিয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। মূলত ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি মেনে ভোট পরিচালনা করতেই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত।
কড়া নজরদারিতে প্রতিটি বুথ
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ব্যবস্থার ফলে প্রতিটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ভেতরের পরিস্থিতি সরাসরি কমিশনের কন্ট্রোল রুম থেকে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। কোনো বুথে অপ্রীতিকর ঘটনা, কারচুপি বা অশান্তির খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে প্রশাসন। প্রতিটি বুথে প্রয়োজন অনুযায়ী দুই থেকে তিনটি ক্যামেরা বসানো হবে।
ভোটারদের গোপনীয়তা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা
ওয়েব কাস্টিং ঘিরে জনমানসে ভোটের গোপনীয়তা নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তার অবসান ঘটিয়েছে কমিশন। ভোটারদের আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে:
- ক্যামেরাগুলি এমনভাবে বসানো হবে যাতে শুধুমাত্র বুথের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটারদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।
- ভোটার কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা কোনোভাবেই রেকর্ড বা প্রকাশ করা হবে না।
- ভোটদানের গোপনীয়তা কোনো অবস্থাতেই ক্ষুণ্ণ হবে না; আপনার পছন্দের প্রার্থীকে দেওয়া ভোট শুধুমাত্র আপনিই জানবেন।
অশান্তি রুখতে তৎপর প্রশাসন: নজরে ২৪-এর মডেল
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বোমাবাজি বা রাজনৈতিক হিংসা নতুন নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী অশান্তি নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো জেলাগুলিতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন তুলনামূলকভাবে অনেকটাই শান্তিপূর্ণ ছিল এবং ভোট পরবর্তী কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
আসন্ন ২০২৬-এর নির্বাচনে সেই শান্তিপূর্ণ ধারা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন:
- ভোটের কাজে যুক্ত প্রতিটি আধিকারিককে শুধুমাত্র কমিশনের নির্দেশ মেনে কাজ করতে হবে।
- কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতার নির্দেশে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- প্রত্যেক জেলা পুলিশ সুপারকে (SP) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে কোনো ধরনের হিংসার ঘটনা দেখলেই বিন্দুমাত্র দেরি না করে কড়া আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর অবস্থান এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে রাজ্যের ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটদান কেন্দ্রে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানোই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।

