ভোটের ময়দানে ‘আক্রান্ত’ পরিবারগুলি: সামশেরগঞ্জে বিজেপির হয়ে প্রচারে নামলেন হিংসায় নিহত বাবা-ছেলের পরিজনেরা

ভোটের ময়দানে ‘আক্রান্ত’ পরিবারগুলি: সামশেরগঞ্জে বিজেপির হয়ে প্রচারে নামলেন হিংসায় নিহত বাবা-ছেলের পরিজনেরা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই নজর কাড়ছেন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বা হিংসার শিকার হওয়া পরিবারের সদস্যরা। আরজি করের নিহত চিকিৎসকের মায়ের বিজেপিতে যোগদান বা সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে তামান্নার মায়ের লড়াইয়ের পর এবার মুর্শিদাবাদে পদ্ম শিবিরের হয়ে ময়দানে নামলেন সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদ গ্রামের নিহত হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের স্ত্রীরা।


বিজেপির মহিলা মোর্চার কর্মিসভায় যোগদান

বুধবার দুপুরে ধুলিয়ান পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলা বিজেপি মহিলা মোর্চার পক্ষ থেকে একটি নির্বাচনী কর্মিসভার আয়োজন করা হয়েছিল। এই সভায় বিজেপির প্রার্থী ষষ্ঠীচরণ ঘোষের সমর্থনে যোগ দেন মৃত হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী পারুল দাস এবং তাঁর পুত্রবধূ তথা নিহত চন্দন দাসের স্ত্রী পিঙ্কি দাস

জেলা বিজেপি মহিলা মোর্চার সভাপতি সুতপা মুখোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই তাঁরা এই সভায় উপস্থিত হন। দলীয় সূত্রে খবর, আসন্ন নির্বাচনে এই দুই মহিলা বিজেপির হয়ে প্রচারের অন্যতম মুখ হয়ে উঠবেন।


“বিজেপি আমাদের পাশে ছিল”: পারুল দাস

চোখের জল মুছতে মুছতে পারুল দাস সংবাদমাধ্যমকে জানান, কঠিন সময়ে বিজেপি তাঁদের যে সহযোগিতা করেছে, তার প্রতিদান দিতেই তাঁরা প্রচারে নেমেছেন। তিনি বলেন:

“বিপর্যয়ের প্রথম থেকেই বিজেপি আমাদের সঙ্গে ছিল। বিপদে পড়ে যখন অসহায় বোধ করছিলাম, তখন একমাত্র ওরাই সব রকম সহযোগিতা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে। এখনো ওরা আমাদের পাশে আছে, তাই ওদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আমরা এসেছি।”


ফিরে দেখা: জাফরাবাদের সেই ভয়াবহ স্মৃতি

গত বছর এপ্রিলে ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল মালদা, মুর্শিদাবাদ ও সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই সময় সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে:

  • ঘটনা: ওয়াকফ বিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে বিন্দুমাত্র সম্পর্ক না থাকলেও, পরিস্থিতির শিকার হন স্থানীয় বাসিন্দা বাবা ও ছেলে।
  • ভয়াবহতা: অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভের মাঝে পড়ে যাওয়ায় হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দন দাসকে কুপিয়ে খুন করা হয়।
  • বিচারের রায়: এই জোড়া খুনের ঘটনায় আদালত ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরজি কর থেকে সামশেরগঞ্জ— সব ক্ষেত্রেই যারা প্রশাসনের ওপর বীতশ্রদ্ধ বা হিংসার শিকার হয়েছেন, তাঁদের নিয়ে জনমত গঠন করাই বিজেপির লক্ষ্য। অন্যদিকে, নির্যাতিত পরিবারগুলির এভাবে সরাসরি ভোটের প্রচারে নেমে পড়া শাসক শিবিরের জন্য বাড়তি অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সামশেরগঞ্জের ভোটে এই দুই মহিলার আবেগপ্রবণ প্রচার কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.