দেশজুড়ে চলছে বাসন্তী নবরাত্রির উৎসব। তবে এই আবহে ভক্তদের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আসন্ন শ্রীরাম নবমী। মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের জন্মতিথি উপলক্ষে আগামী ২৭ মার্চ সারা ভারতে ধুমধাম করে পালিত হবে এই উৎসব। শাস্ত্র মতে, চৈত্র নবমীর এই পবিত্র দিনেই অযোধ্যায় রাজা দশরথ ও রানী কৌশল্যার ঘরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শ্রীরাম।
রামনবমী ২০২৬: দিনক্ষণ ও শুভ তিথি
এ বছর তিথির জটিলতা থাকলেও উদয়া তিথি অনুযায়ী ২৭ মার্চ, শুক্রবার সারা দেশে রামনবমী পালিত হবে।
- নবমী তিথি শুরু: ২৬ মার্চ, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে।
- নবমী তিথি সমাপ্ত: ২৭ মার্চ, বিকেল ৫টা ৩১ মিনিটে।
- মধ্যাহ্নকালীন শুভ সময় (পুজোর সময়): ২৬ ও ২৭ মার্চ উভয় দিনই বেলা ১১টা ১৩ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত পুজোর মাহেন্দ্রক্ষণ থাকছে। এর মধ্যে সবথেকে শুভ সময় হলো বেলা ১২টা ২৭ মিনিট।
রামলালার সরল পুজো বিধি
রামনবমীর দিন শ্রীরামের আশীর্বাদ পেতে ভক্তরা অত্যন্ত সহজ পদ্ধতিতে বাড়িতেই পুজো করতে পারেন:
- সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার (লাল বা হলুদ) পোশাক পরিধান করুন।
- পুজোর স্থান গঙ্গাজল দিয়ে পবিত্র করে শ্রীরামের মূর্তি বা ছবি স্থাপন করুন।
- চন্দন, অক্ষত, ফুল ও নতুন বস্ত্র নিবেদন করুন।
- ফল ও মিষ্টির ভোগ দিয়ে ধূপ-প্রদীপ জ্বালিয়ে রামজির মন্ত্র জপ করুন।
- পরিশেষে ভক্তিভরে আরতি সম্পন্ন করুন এবং বাড়ির সদর দরজা ফুল ও পাতা দিয়ে সাজিয়ে তুলুন।
ইচ্ছেপূরণের ৩টি বিশেষ উপায়
শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রামনবমীর দিন নির্দিষ্ট কিছু কাজ করলে ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়:
- রামচরিতমানস পাঠ: সকালে স্নানের পর রামচরিতমানসের ‘বালকাণ্ড’ পাঠ করলে মানসিক শান্তি ও ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি পায়।
- তুলসী মালা অর্পণ: ১০৮টি তুলসী পাতায় চন্দন দিয়ে ‘শ্রীরাম’ লিখে তা প্রভুর চরণে অর্পণ করলে তিনি অত্যন্ত প্রীত হন।
- ছোলা ও গুড় দান: যে কোনো রাম মন্দিরে ১.৫ কেজি ছোলা ও গুড় দান করলে জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসে বলে মনে করা হয়।
মহাষ্টমী ও মহানবমীর তাৎপর্য
শারদীয়া দুর্গাপুজোর মতোই চৈত্র নবরাত্রির অষ্টম ও নবম দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) পালিত হবে মহাষ্টমী বা দুর্গষ্টমী। এই দিনে অনেক ভক্ত কন্যা পুজো বা কুমারী পুজো সম্পন্ন করেন। এর ঠিক পরদিন ২৭ মার্চ মহানবমী তথা রামনবমী পালিত হবে।
পুরান মতে, নিষ্ঠাভরে এই তিথিতে উপবাস পালন এবং রামচরিতমানস পাঠ করলে জাতকের জীবনে সমস্ত বাধা বিঘ্ন দূর হয় এবং শ্রীবৃদ্ধি ঘটে।

