আইএসএলের ইতিহাসে নিজেদের স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখল ইস্টবেঙ্গল এফসি। সোমবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মিনি ডার্বিতে মহমেডান স্পোর্টিংকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করল অস্কার ব্রুজ়োর দল। দ্বিশতক করলেন আনোয়ার আলি এবং ইউসেফ এজেজারি। এই জয়ের ফলে আইএসএল টেবিলের চার নম্বরে উঠে এল লাল-হলুদ ব্রিগেড।
পরিসংখ্যান ও রেকর্ডের পাতায় ইস্টবেঙ্গল
সোমবারের এই জয় শুধু ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাসেই বৃহত্তম নয়, বরং আইএসএলের সামগ্রিক ইতিহাসেও এটি যুগ্মভাবে শ্রেষ্ঠ।
- রেকর্ড জয়: এর আগে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এ দিনের ৭-০ জয় সেই রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেল। ২০১৫ সালে এফসি গোয়া মুম্বই সিটিকে ৭-০ গোলে হারিয়েছিল, সেই নজির স্পর্শ করল মশাল বাহিনী।
- পয়েন্ট টেবিল: ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এল তারা।
- গোল সংখ্যা: চলতি মরসুমে ৭ ম্যাচে ১৬টি গোল করে গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে ইস্টবেঙ্গল (মোহনবাগান ১৪)।
- আধিপত্য: ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল কর্নার পেয়েছে ২০টি, যেখানে মহমেডান একটিও পায়নি।
ম্যাচের গতিপ্রকৃতি: শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড়
ম্যাচের শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গল বুঝিয়ে দিয়েছিল তারা আজ গোল উৎসবের মেজাজে। যদিও কোচ অস্কার ব্রুজ়োর কপালে চিন্তার ভাঁজ থাকতে পারে ফরোয়ার্ডদের গোল নষ্টের প্রবণতা নিয়ে। বিশেষ করে এজেজারি, ডেভিড লালানসাঙ্গা ও পিভি বিষ্ণুরা একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান ডজন ছাড়াতে পারত।
ম্যাচের হাইলাইটস:
- ৬ মিনিট: আনোয়ার আলির দূরপাল্লার গড়ানো শটে গোলের খাতা খোলে ইস্টবেঙ্গল।
- ১২ মিনিট: পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন এজেজারি।
- ৩৪ মিনিট: মহমেডানের জোসেফ আদজেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দশ জনে হয়ে যায় সাদা-কালো ব্রিগেড। পেনাল্টি থেকে গোল করেন সাউল ক্রেসপো।
- ৫৩ মিনিট: এজেজারি পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করেন।
- ৭৪ মিনিট: ডান দিক থেকে আসা ক্রস বুক দিয়ে ঠেলে জালে জড়ান পিভি বিষ্ণু।
- আনোয়ারের ম্যাজিক: মহেশের কর্নার থেকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে বাঁ পায়ের দর্শনীয় শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আনোয়ার আলি।
- নন্দকুমারের ফিনিশ: ৮৫ মিনিটে একবার পোস্টে বল লাগার পর, শেষ লগ্নে ডান দিক থেকে একক দক্ষতায় ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের মাপা শটে সপ্তম গোলটি করেন নন্দকুমার।
মহমেডানের অসহায় আত্মসমর্পণ
দশ জনে হয়ে যাওয়ার পর মহমেডানের খেলায় কোনো লড়াইয়ের মানসিকতা দেখা যায়নি। গোলরক্ষক পদম ছেত্রীর কিছু ভুল এবং রক্ষণভাগের ব্যর্থতায় কার্যত আত্মসমর্পণ করে তারা। উল্টোদিকে দ্বিতীয়ার্ধে নাওরেম মহেশ নামার পর ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের ঝাঁজ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজ়ো খুশি হলেও সতর্ক। বড় ম্যাচে এত সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হতে পারে, তা নিয়ে খেলোয়াড়দের ক্লাসে তিনি কী বলেন, এখন সেটাই দেখার।

