রবিবার খড়্গপুরের ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের বার্ষিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্য রাজনীতি ও আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের সম্ভাবনা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও অনুপ্রবেশ ইস্যু— প্রতিটিতেই নিজস্ব ভঙ্গিতে তোপ দাগেন তিনি।
ভবানীপুর নিয়ে আক্রমণ
ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, বিজেপি সেখানে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তিনি বলেন, “আমরা ভবানীপুরে হুক করে দিয়েছি। ভেবেছিলেন ৪৫ হাজার ভুয়ো ভোট দিয়ে জিতে যাবেন, পুলিশ দিয়ে জিতে যাবেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখন সেই পুলিশ কর্মীদের ভালো করে রগড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষ সাহসের সঙ্গে ভোট দেবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় এত সহজ হবে না।”
কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমিশনের ভূমিকা
নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঠিক ব্যবহার নিয়ে এদিন সরব হন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ:
- বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা: শ্যামনগর বা কলকাতায় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা কেন ঘটবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, পুলিশ কৌশলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ভুল জায়গায় পাঠিয়ে দিচ্ছে যাতে তারা সময়মতো গণ্ডগোল থামাতে না পারে।
- কমিশনের নজরদারি: কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ জানান, বাহিনী যেন বসে না থাকে এবং তারা যেন ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় পৌঁছাতে পারে তা নিশ্চিত করা হোক।
- বাংলার বদনাম ঘোচানো: রাজ্যে আরও বাহিনী আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এবার বাংলায় শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের যে ‘বদনাম’ আছে, তা ঘোচানোই এখন লক্ষ্য।
‘ব্ল্যাকস্পট’ মুর্শিদাবাদ ও অনুপ্রবেশ ইস্যু
মুর্শিদাবাদে সবথেকে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি মুর্শিদাবাদকে সারা ভারতের ‘ব্ল্যাকস্পট’ বা কলঙ্কিত স্থান হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “মুর্শিদাবাদ দিয়ে অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গারা ঢুকছে। সেখান থেকে পরিচয়পত্র (আইকার্ড) বানিয়ে তারা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। সেই কারণেই সেখানে কড়া নজরদারি প্রয়োজন।”
সাপ্লিমেন্টারি তালিকা ও তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব
সোমবার প্রকাশিত হতে চলা সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাঁদের আশঙ্কা অনুযায়ী ভেরিফিকেশন হলেই এক কোটির বেশি অমিল বা জালিয়াতি ধরা পড়বে। অন্যদিকে, মিনাখাঁয় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে তাঁর টিপ্পনী— “যারা সমাজবিরোধীদের নিয়ে রাজনীতি করে, তাদের পরিণতি এমনই হয়।”

