পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা-ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এক ভয়াবহ মোড় নিল। গত ২২ মার্চ এই যুদ্ধ ২৩ দিনে পা দিয়েছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, অন্যথায় ইরানকে ‘মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে, পাল্টা জবাবে ইরান নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এই জলপথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের কড়া শর্ত
মার্কিন হুমকির মুখে নতিস্বীকার না করে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে, তবে সেখানে থাকছে একটি বিশেষ শর্ত।
- শত্রু দেশের জন্য নিষেধাজ্ঞা: আমেরিকা, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর (যেমন: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার ও কুয়েত) কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।
- সমন্বয়ের বার্তা: আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থায় ইরানের প্রতিনিধি আলি মৌসাভি জানিয়েছেন, যেসব জাহাজের সঙ্গে ইরানের শত্রুদের কোনো সম্পর্ক নেই, তারা তেহরানের সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সমন্বয় করে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করতে পারবে।
মৌসাভির মতে, বর্তমান উত্তেজনার মূলে রয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের ওপর আমেরিকার হামলা। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কূটনীতিকে প্রাধান্য দিলেও আগ্রাসন বন্ধ হওয়া এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি হওয়া এখন সবচেয়ে জরুরি।
ভারতের জন্য কেন এটি স্বস্তির খবর?
ইরানের এই নতুন অবস্থানে ভারত কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে ভারতের ২২টি জাহাজ আটকে রয়েছে। ইরান যেহেতু ‘শত্রু দেশ’ ছাড়া বাকিদের যাতায়াতে ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, তাই ভারতের জাহাজগুলো মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে।
- ভারত সরকার প্রতিনিয়ত তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
- যদি ভারতীয় জাহাজগুলো চলাচলের অনুমতি পায়, তবে দেশের চলমান জ্বালানি সংকট দ্রুত কেটে যেতে পারে।
ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে এখন বিশ্ব। ট্রাম্প যেখানে সামরিক শক্তির আস্ফালন দেখাচ্ছেন, ইরান সেখানে শর্তসাপেক্ষ কূটনীতির তাস খেলছে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো আলোচনার আগে আমেরিকা ও ইসরায়েলকে তাদের হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
ভারতের জন্য পরিস্থিতি এখন ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’-এর (Wait and Watch)। দিল্লির কূটনৈতিক মহল আশা করছে, ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্কের জেরে ভারতের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই সংঘাতের আঁচ থেকে রক্ষা পাবে।

