পরিবর্তনের লক্ষ্য ‘সোনার বাংলা’: রায়দিঘির সভা থেকে গুচ্ছ প্রতিশ্রুতির ‘সঙ্কল্পপত্র’ পেশ অমিত শাহের

পরিবর্তনের লক্ষ্য ‘সোনার বাংলা’: রায়দিঘির সভা থেকে গুচ্ছ প্রতিশ্রুতির ‘সঙ্কল্পপত্র’ পেশ অমিত শাহের

বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র দ্বিতীয় দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি থেকে কার্যত নির্বাচনী রণকুণ্ডু বাজিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য দলের ‘সঙ্কল্পপত্র’ বা ইস্তাহার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত না হলেও, সোমবার মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার এই জনসভা থেকে শাহ যা ঘোষণা করলেন, তাকে আদতে বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির খসড়া বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সরকারি কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা: সপ্তম বেতন কমিশন

রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভকে উসকে দিয়ে শাহ এদিন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৫ বছর ধরে সরকার চালাতে সাহায্য করলেও কর্মচারীরা বদলে কী পেয়েছেন? শাহ ঘোষণা করেন:

  • সপ্তম বেতন কমিশন: রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠিত হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে।
  • লুপ্ত পদ ফিরিয়ে আনা: গত কয়েক বছরে যে সমস্ত স্থায়ী পদ তুলে দেওয়া হয়েছে, ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মধ্যে সেই সব পদ পুনরায় চালু করা হবে।

বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘গুড নিউজ’

রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি এবং কর্মসংস্থানের অভাবকে হাতিয়ার করে শাহ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেন:

  • শূণ্যপদ পূরণ: ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত শূণ্য সরকারি পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।
  • বয়সসীমায় ছাড়: দীর্ঘ সময় নিয়োগ না হওয়ায় যাঁদের চাকরির বয়স পেরিয়ে গিয়েছে, তাঁদের জন্য ৫ বছরের অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হবে।
  • স্বচ্ছ নিয়োগ: কোনো ‘ঘুষ’ ছাড়াই মেধার ভিত্তিতে যুব সমাজকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

অনুপ্রবেশ ও নাগরিকত্ব ইস্যুতে কড়া বার্তা

শরণার্থী ও উদ্বাস্তুদের আশ্বস্ত করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “হিন্দু শরণার্থীদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। কেন্দ্রীয় সরকার আপনাদের পাশে আছে, নাগরিকত্ব আপনারা পাবেনই।” একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গে পরিণত করেছেন। শাহের কথায়, পরিবর্তনের অর্থ কেবল মুখ্যমন্ত্রিত্ব বদল নয়, বরং অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতি থেকে বাংলাকে মুক্ত করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলা।

তৃণমূল ও রাজীব কুমারকে আক্রমণ

রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী করা নিয়ে তোপ দাগেন শাহ। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে গরু পাচার ও রেশন দুর্নীতির মতো সমস্ত কেলেঙ্কারিকে আড়াল করার পুরস্কার হিসেবেই রাজীব কুমারকে রাজ্যসভায় পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি, মথুরাপুরের সভা থেকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের হিংসা প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি সরকার এলে গুন্ডাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করা হবে।”

রাজ্যজুড়ে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র মহোৎসব

রায়দিঘিতে শাহের এই মেগা সভার পাশাপাশি সোমবার রাজ্যের আরও চারটি প্রান্ত থেকে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনা হয়েছে:

  • আমতা (হাওড়া): উদ্বোধন করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ
  • সন্দেশখালি (উত্তর ২৪ পরগনা): উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান
  • হাসন (বীরভূম): উদ্বোধন করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস
  • ইসলামপুর (উত্তর দিনাজপুর): ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন

শাহ এদিন সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, এবার যদি ভোটাররা ভুল করেন, তবে বাংলায় ‘মমতাদিদি’র নয়, বরং তাঁর ‘ভাইপো’র শাসন কায়েম হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.