মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকা-ইজরায়েল যৌথ বাহিনীর মধ্যেকার সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, তেহরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযান অন্তত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘ডেইলি মেইল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রয়োজন পড়লে আমেরিকা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সেনাহানি
রবিবার রাতে কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও পাঁচ জন। এরপর সোমবার বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (5th Fleet) সদর দফতরকেও নিশানা করে ইরান। আমেরিকার বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই তেহরানের অনুগামীরা মরণপণ প্রতিরোধ শুরু করেছে।
সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের আধুনিক প্রযুক্তি সত্ত্বেও ইরানকে দ্রুত পরাস্ত করা সহজ হবে না। খামেনেইয়ের অনুগামীদের এই প্রত্যাঘাতই যুদ্ধের সময়সীমা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের অবস্থান ও রণকৌশল
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও তিনি বিচলিত নন। সাক্ষাৎকারে তাঁর মূল বক্তব্যগুলো হলো:
- সময়সীমা: অভিযানটি ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
- প্রস্তুতি: দীর্ঘ সময়ের লড়াইয়ের জন্য হোয়াইট হাউস মানসিকভাবে প্রস্তুত।
- অনিশ্চয়তা: তবে ৪-৫ সপ্তাহ পরে তেহরানের ওপর চূড়ান্ত বিজয় আসবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।
‘অপারেশন লায়নস রোর’ ও পালটা হামলা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইজরায়েলি বায়ুসেনা ও মার্কিন বায়ুসেনা যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। ইজরায়েলের অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন লায়নস রোর’ এবং মার্কিন অভিযানের নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। এই হামলায় খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্তমানে তেহরান কেবল ইজরায়েল বা আমেরিকাই নয়, বরং কুয়েত, বাহরিন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, জর্ডন এবং সৌদি আরবেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এমনকি সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সেনাঘাঁটিও ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

