“১৫০ জন বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে প্রমাণ কোথায়?”— মমতার দিল্লি সফরকে ‘কুনাট্য’ বলে তোপ তথাগত রায়ের

“১৫০ জন বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে প্রমাণ কোথায়?”— মমতার দিল্লি সফরকে ‘কুনাট্য’ বলে তোপ তথাগত রায়ের

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের উদ্দেশ্য এবং নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘চরম ঔদ্ধত্য’ ও ‘রাজনৈতিক মেলোড্রামা’ বলে অভিহিত করলেন মেঘালয় ও ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়। বুধবার নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে একাধিক পোস্টের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাঁর অতীতের আন্দোলনের ধরনকেও কটাক্ষ করেন প্রবীণ এই বিজেপি নেতা।

মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন

মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার জেরে ১৫০ জন বৃদ্ধ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই তথ্যের অসারতা প্রমাণ করতে তথাগত রায় ভারতের বার্ষিক মৃত্যুহারের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর যুক্তি:

  • ভারতে বার্ষিক মৃত্যুহার হাজারে ৬ জন (০.৬%)। সেই অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ৭.৬৬ কোটি ভোটারের মধ্যে বছরে গড়ে ৪.৫৬ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়।
  • গত ৪ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত তিন মাসে স্বাভাবিক নিয়মেই প্রায় ১.৪০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হওয়ার কথা।
  • তথাগতবাবুর প্রশ্ন, “এই দেড় লক্ষ মানুষের মধ্যে যে ১৫০ জন মারা গেছেন, তাঁরা যে এসআইআর-এর কারণেই মারা গেছেন— তার কোনও প্রমাণ কি মমতার কাছে আছে? স্বাভাবিক মৃত্যু বা রোগভোগকে কেন রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে?”

“পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে”

তথাগত রায়ের মতে, ভোটার তালিকা থেকে ‘ভুতুড়ে’ এবং অবৈধ বাংলাদেশি ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় তৃণমূল নেত্রী বিচলিত হয়ে পড়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন:

“পুকুর চুরি ধরা পড়ে যাচ্ছে বলেই এখন ‘বাঙালির ওপর অত্যাচার হচ্ছে’ বলে চিৎকার করা হচ্ছে। নিজের রাজ্য যখন গুন্ডামি, অনুপ্রবেশ আর চুরিতে জর্জরিত, তখন মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় না থেকে দিল্লিতে গিয়ে নাটক করছেন।”

অতীতের স্মৃতি ও দিল্লি পুলিশ

মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর এবং সেখানে তাঁর নিরাপত্তা বলয় নিয়ে তথাগতবাবু ১৯৯৬ সালের ৬ এপ্রিল আলিপুরের গোপালনগর মোড়ের একটি ঘটনার স্মৃতি মনে করিয়ে দেন। সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গলায় চাদর জড়িয়ে আত্মহত্যার প্রতীকী প্রতিবাদ করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে তথাগতবাবু বলেন, দিল্লিতেও যদি মুখ্যমন্ত্রী এমন কোনও ‘কুনাট্য’ করেন, তবে তাঁকে আটকানোর প্রাথমিক দায়িত্ব দিল্লি পুলিশেরই। কারণ, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দিল্লির অতিথি এবং তাঁর নিরাপত্তার দায়ভার প্রশাসনের।

নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ প্রসঙ্গে

তথাগত রায়ের দাবি, নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই মুখ্যমন্ত্রী এখন নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লক্ষ্যবস্তু করছেন। তাঁর মতে, এসআইআর একটি অত্যন্ত সরল এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, যাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। মূলত রাজনৈতিকভাবে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার ভয়েই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি করেন এই বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.