ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ইতালি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দাপট সবুজ গালিচায় সর্বজনবিদিত। তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্সে সোমবার স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ অভিযানে নামছে ইতালির ক্রিকেট দল। আর এই ঐতিহাসিক অভিযাত্রার আগে ইতালীয় অধিনায়ক ওয়েন মাডসেন শোনালেন এক উল্টো পুরাণ। তাঁর লক্ষ্য— ক্রিকেটের সাফল্য দিয়ে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা দেশের ফুটবল দলকে পুনরুজ্জীবিত করা।
ফুটবলের দুর্দিন বনাম ক্রিকেটের উত্থান
ফুটবল মাঠে ইতালির সময়টা ভালো যাচ্ছে না। ২০০৬ সালে শেষবার ফিফা বিশ্বকাপ জেতার পর ২০১০ ও ২০১৪-তে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। এমনকি ২০১৮ এবং ২০২২-এর মতো মেগা ইভেন্টে যোগ্যতা অর্জনই করতে পারেনি আজ্জুরিরা। ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলাও এখনও নিশ্চিত নয়। এই পরিস্থিতিতে মাডসেন বলেন:
“আশা করি আমাদের ক্রিকেটীয় পারফরম্যান্স ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে খেলার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পারবে। আমরা যদি এমন কিছু করে দেখাতে পারি যা দেখে ওরা অনুপ্রেরণা পায়, তবে সেটা হবে আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।”
প্রস্তুতির তুঙ্গে ইতালীয় বাহিনী
অভিষেক বিশ্বকাপ হলেও ইতালি যে কেবল অংশ নিতে আসেনি, তা মাডসেনের কথায় স্পষ্ট। ইডেনে নামার আগে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি জানান:
- দীর্ঘ অনুশীলন: চেন্নাইয়ে আসার আগে দুবাইয়ে দীর্ঘ সময় কন্ডিশনিং ক্যাম্প করেছে দল।
- প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ: আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে হাই-ভোল্টেজ ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি একাধিক প্রস্তুতি ম্যাচেও অংশ নিয়েছে তারা।
- দীর্ঘদিনের স্বপ্ন: মাডসেনের মতে, বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন তাঁরা দীর্ঘকাল ধরে লালন করেছেন, এখন তা বাস্তবায়নের সময়।
ভারতের ক্রিকেট উন্মাদনা নিয়ে উচ্ছ্বাস
ভারতকে ‘ক্রিকেটপাগল’ দেশ হিসেবে বর্ণনা করে ইতালীয় অধিনায়ক বলেন, “গত দুই সপ্তাহ ভারতে থেকে আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে। এখানকার পরিবেশ দুর্দান্ত। ভারতের মতো দেশে বিশ্বকাপ খেলা আমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। আমি সতীর্থদের বলেছি প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করতে।”
ফুটবল পাগল দেশ হিসেবে পরিচিত ইতালির নাম এবার ক্রিকেটের মানচিত্রে কতটা উজ্জ্বল হয়, সোমবার ইডেনে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাডসেনদের লড়াইয়ের দিকেই তাকিয়ে ক্রীড়া মহল।

