আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। রবিবার দুপুর থেকে শালবনী বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিমান মাহাতো গোয়ালতোড় এলাকায় ব্যাপক জনসংযোগ ও প্রচার কর্মসূচি পালন করেন। দিনভর একাধিক গ্রাম পরিক্রমা করে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার চেষ্টা করেন তিনি।
প্রচারের রূপরেখা ও জনজোয়ার
বিজেপি প্রার্থীর এদিনের প্রচার শুরু হয় শাখাভাঙ্গা এলাকা থেকে। এরপর ধরমপুর ও কদমডিহা-সহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে দীর্ঘ পদযাত্রা করেন তিনি। গ্রামের অলিগলি ঘুরে বিমান মাহাতো ভোটারদের দুয়ারে পৌঁছান এবং স্থানীয়দের সমস্যা ও দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রচারের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল মহিলাদের অংশগ্রহণ। বিভিন্ন জায়গায় মহিলারা শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মাধ্যমে বিজেপি প্রার্থীকে স্বাগত জানান। বিকেলের দিকে মুড়াকাটা, শিরীষবনি ও কদশোল এলাকাতেও প্রচার চালান তিনি। প্রতিটি জায়গাতেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রচার কর্মসূচিটি কার্যত উৎসবের চেহারা নেয়।
হেভিওয়েট লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট
শালবনী বিধানসভা কেন্দ্রটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১১ সাল থেকে এই কেন্দ্রের বিধায়ক পদে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা শ্রীকান্ত মাহাতো। এবার তাঁর হ্যাটট্রিক রুখতে এবং আসনটি পুনরুদ্ধারে বিজেপি ময়দানে নামিয়েছে বিমান মাহাতোকে। অভিজ্ঞ বিধায়ক বনাম তরুণ চ্যালেঞ্জারের এই লড়াইকে কেন্দ্র করে সরগরম স্থানীয় রাজনীতি।
রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শালবনীতে এবার অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক শক্তি ও অভিজ্ঞ বিধায়কের ভাবমূর্তি, অন্যদিকে বিজেপির পরিবর্তন ও নতুন মুখ— এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের রায় কোন দিকে যায়, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। নিবিড় জনসংযোগের মাধ্যমে বিমান মাহাতো বর্তমানে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন, যা নির্বাচনী লড়াইকে আরও জমজমাট করে তুলেছে।

