‘পাল্টা শুল্ক’ ঘোষণার জের! কোভিডের পর এই প্রথম বড় ধস মার্কিন শেয়ার বাজারে, আশার কথা শোনাচ্ছেন ট্রাম্প

আশঙ্কা ছিলই। বাস্তবে হলও তাই। বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের উপর পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করার পরেই ধস নামল আমেরিকার শেয়ার বাজারে। পরিসংখ্যান বলছে, কোভিড অতিমারির পর এত বড় ধস দেখা যায়নি মার্কিন অর্থনীতিতে। ট্রাম্প নিজে অবশ্য আশাবাদী। তাঁর দাবি, অর্থনীতি আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে। নিশ্চিন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ইঙ্গিতও দিয়েছেন যে, সপ্তাহান্তটা তিনি তাঁর ফ্লরিডার গল্ফ রিসর্টে কাটাবেন।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিভিন্ন দেশ যেমন আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছে, তেমনই মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক চাপানোর কথাও ঘোষণা করেছে। আমেরিকায় রফতানি হওয়া গাড়ির উপর শুল্ক আরোপ হওয়ায় বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা অন্যান্য দেশে গাড়ি উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। বিনিয়োগকারীদের অনেকেই সোনা কেনা বন্ধ রেখে ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিরাপদ কিছু কিনতে চাইছেন। ডলারের মূল্যমান হ্রাস পাওয়াও চিন্তায় রাখছে মার্কিন নাগরিকদের। সব মিলিয়ে আগামী দিনে আমেরিকা মুদ্রাস্ফীতির কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনীতির এই টালমাটাল সময়ে ট্রাম্প-বচন, “এটা হওয়ারই ছিল।” একই সঙ্গে মার্কিন অর্থনীতির বেহাল দশা বোঝাতে রূপকের আড়ালে তিনি বলেন, “রোগী খুবই অসুস্থ ছিল। একটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। অর্থনীতি মজবুত হতে চলেছে। দারুণ কিছু হবে।”

দ্বিতীয় বার মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসার পর থেকেই আমেরিকার শুল্ক নীতি বদলে ফেলেছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যে সমস্ত দেশ আমেরিকার পণ্য থেকে যত শুল্ক নিয়ে থাকে, তাদের উপরেও পাল্টা তত শুল্কই চাপানো হবে। এ বিষয়ে আমেরিকার স্বার্থের কথাই শুধু মাথায় রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার ট্রাম্পের তালিকা বলছে, ভারতের পণ্যের উপর ২৬ শতাংশ শুল্ক নেওয়া হবে। এ ছাড়া, চিনের পণ্যে ৩৪ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যে ২০ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ভিয়েতনামের পণ্য থেকে ৪৫ শতাংশ, তাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ শুল্ক নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। চলতি মাস থেকেই এই বর্ধিত শুল্ক প্রয়োগ করা হবে মার্কিন বাণিজ্যনীতিতে।

ট্রাম্পের নতুন নীতিতে প্রায় প্রতিটি দেশের উপরেই ন্যূনতম ১০ শতাংশ হারে শুল্ক চাপানো হয়েছে। তবে আমেরিকায় যে সমস্ত পণ্যের উৎপাদন নেই, যার জন্য অন্য কোনও না কোনও দেশের উপরে আমেরিকাকে নির্ভর করে থাকতে হয়, সেই পণ্যগুলিকে শুল্কের তালিকা থেকে বাদ রেখেছেন ট্রাম্প। ভারতের ওষুধ ও ওষুধ প্রস্তুতকারক পণ্য, তামা, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো বেশ কিছু পণ্যে আমেরিকায় কোনও বাড়তি আমদানি শুল্ক নেওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.