ভোটের প্রতিশ্রুতি পূরণে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ সরকার। আগামী ১৫ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ৪,৯০৮টি মসজিদ এবং বিভিন্ন মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধবিহারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সাম্মানিক ভাতা ও উৎসব বোনাস প্রকল্প চালু হতে যাচ্ছে। আগামী ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
ভাতার হার ও বিভাজন
সরকারি সূত্র অনুসারে, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পদমর্যাদা অনুযায়ী ভাতার অঙ্ক নির্ধারিত হয়েছে:
| ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান | পদমর্যাদা | মাসিক ভাতা (বিডিটি) |
| মসজিদ | ইমাম | ৫,০০০ টাকা |
| মুয়াজ্জিন | ৩,০০০ টাকা | |
| খাদেম | ২,০০০ টাকা | |
| মন্দির | পুরোহিত | ৫,০০০ টাকা |
| সেবায়েত | ৩,০০০ টাকা | |
| বৌদ্ধবিহার | অধ্যক্ষ | ৫,০০০ টাকা |
| উপাধ্যক্ষ | ৩,০০০ টাকা | |
| গির্জা | যাজক | ৫,০০০ টাকা |
| সহকারী যাজক | ৩,০০০ টাকা |
উৎসব বোনাস ও বিশেষ সুবিধা
শুধুমাত্র মাসিক সাম্মানিক নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবেও বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে:
- মুসলিম: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ১,০০০ টাকা করে উৎসব ভাতা।
- অন্যান্য ধর্ম: দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা এবং বড়দিন উপলক্ষে ২,০০০ টাকা করে বিশেষ ভাতা প্রদান করা হবে।
আর্থিক বরাদ্দ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মহম্মদ ইসমাইল জবিউল্লাহ জানিয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষে এই প্রকল্প কার্যকর করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২০ কোটি টাকা) প্রয়োজন হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত মসজিদের সংখ্যা ৪,৯০৮, মন্দিরের সংখ্যা ৯৯০, বৌদ্ধবিহার ১৪৪ এবং গির্জার সংখ্যা ৩৯৬।
প্রাথমিকভাবে এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও, সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে আগামী চারটি অর্থবর্ষের মধ্যে ধাপে ধাপে দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের এই সাম্মানিক প্রকল্পের আওতায় আনা। উল্লেখ্য, ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দীর্ঘদিন ধরে ইমাম ও পুরোহিত ভাতা প্রদান করে আসছে, এবার সেই পথেই হাঁটল ওপার বাংলা।

