শিবমের রেকর্ড গড়া লড়াই বিফলে, বিশাখাপত্তনমে কিউয়িদের কাছে পর্যুদস্ত ভারত

শিবমের রেকর্ড গড়া লড়াই বিফলে, বিশাখাপত্তনমে কিউয়িদের কাছে পর্যুদস্ত ভারত

প্রথম তিন ম্যাচে জয় পেলেও সিরিজ়ের চতুর্থ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হালকাভাবে নেওয়ার মাসুল গুনল ভারত। এক জন বিশেষজ্ঞ ব্যাটার কম খেলানোর ঝুঁকি এবং টপ অর্ডারের ব্যর্থতা— এই দুইয়ের যোগফলের নাম ৫০ রানের বড় ব্যবধানে হার।

কিউয়ি ব্যাটিং ও ভারতীয় বোলিংয়ের হালচাল

টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তবে কিউয়ি ব্যাটার টিম সেইফার্ট ও ডেভন কনওয়ে শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন।

  • টিম সেইফার্ট: ৩৬ বলে ৬২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটালেন।
  • ডেভন কনওয়ে ও ড্যারিল মিচেল: কনওয়ে ৪৪ এবং শেষ দিকে মিচেলের ১৮ বলে ৩৯ রানের সৌজন্যে ২১৫ রানের বড় স্কোর খাড়া করে নিউজিল্যান্ড।
  • ভারতীয় বোলিং: হর্ষিত রানা ৪ ওভারে ৫৪ রান খরচ করে আরও একবার হতাশ করলেন। কুলদীপ যাদব ও অর্শদীপ সিং ২টি করে উইকেট নিলেও রবি বিষ্ণোই এই ম্যাচে বেশ দামি প্রমাণিত হন। ফিল্ডিংয়ে নজর কাড়েন রিঙ্কু সিং, তিনি ৩টি চমত্কার ক্যাচ ধরেন।

ব্যাটিং বিপর্যয় ও সঞ্জু স্যামসনের ফিকে হওয়া সম্ভাবনা

২১৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। অভিষেক শর্মা (০) এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (৮) দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। ইশান কিশন না থাকায় মিডল অর্ডারের দায়িত্ব ছিল সঞ্জু স্যামসনের ওপর। কিন্তু ১৫ বলে ২৪ রান করে সঞ্জু যেভাবে আউট হলেন, তাতে তাঁর আত্মবিশ্বাসের অভাব প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে। বিশ্বকাপের দৌড়ে তাঁর টিকে থাকা নিয়ে এখন সংশয় দানা বাঁধছে।

শিবম দুবের পাল্টা আক্রমণ

ভারতের স্কোর যখন ৬ উইকেটে ১১০, তখন একার হাতে লড়াই শুরু করেন শিবম দুবে। ইশ সোধির এক ওভারে ২৯ রান তুলে নিয়ে তিনি মাত্র ১৫ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন, যা ভারতের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম। জয়ের আশা জাগিয়েও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি ২৩ বলে ৬৫ রান (৩টি চার, ৭টি ছক্কা) করে রান আউট হন। হর্ষিত রানার শট বোলারের হাতে লেগে স্টাম্পে লাগলে ক্রিজ়ের বাইরে থাকা শিবমকে ফিরতে হয়। তাঁর আউটের পরেই ভারতের প্রতিরোধ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।

পর্যালোচনায় ভারতের পরিকল্পনা

এই ম্যাচে শ্রেয়স আইয়ারকে বসিয়ে বোলিং গভীরতা বাড়ানোর গৌতম গম্ভীরের কৌশল পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সাত নম্বরে হর্ষিত রানা নামায় ব্যাটিংয়ের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। ১৮.৩ ওভারে মাত্র ১৬৫ রানেই অল-আউট হয়ে যায় ভারত।

ম্যাচের পরিসংখ্যান এক নজরে:

  • নিউজিল্যান্ড: ২১৫/৭ (২০ ওভার)
  • ভারত: ১৬৫/১০ (১৮.৩ ওভার)
  • ফলাফল: নিউজিল্যান্ড ৫০ রানে জয়ী।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াড চূড়ান্ত হওয়ার আগে ভারতের হাতে রয়েছে আর মাত্র একটি সুযোগ। সেখানে নিজেদের দুর্বলতা কতটা কাটিয়ে উঠতে পারেন সূর্যেরা, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.