বারামতীর আকাশে মহাবিপর্যয়: বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের প্রয়াণ

বারামতীর আকাশে মহাবিপর্যয়: বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের প্রয়াণ

বুধবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বই বিমানবন্দর থেকে লিয়ারজেট-৪৫ প্রাইভেট জেটে চড়ে বারামতীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন অজিত পওয়ার। ওড়ার মাত্র ৩৩ মিনিটের মাথায়, ৮টা ৪৩ মিনিটে বারামতী বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে বিমানটি ভেঙে পড়ে। মাটিতে আছড়ে পড়ার সাথে সাথেই সেটিতে আগুন ধরে যায়।

দুর্ঘটনার গতিপ্রকৃতি ও প্রযুক্তিগত তথ্য

বিমানের যাত্রাপথ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ফ্লাইটরেডার ২৪’ এবং এটিসি সূত্রে জানা গিয়েছে:

  • উচ্চতা ও গতি: ওড়ার ১০ মিনিটের মধ্যে বিমানটি ৬ কিমি উচ্চতায় পৌঁছে ১০৩৬ কিমি/ঘণ্টা বেগে উড়ছিল।
  • যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: ৮টা ৩৪ মিনিট থেকে বিমানটি সঙ্কেত পাঠানো বন্ধ করে দেয়। ভেঙে পড়ার ঠিক আগে এটি ১০১৬ মিটার উচ্চতায় ছিল।
  • অবতরণে ব্যর্থতা: পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত কপূর এটিসি-কে জানিয়েছিলেন যে তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন না। একবার চক্কর কেটে দ্বিতীয়বার নামার চেষ্টার সময় বিমানটি নিখোঁজ হয়ে যায়।

‘ঘড়ি’ দেখেই শনাক্ত হলো দেহ

দুর্ঘটনার তীব্রতায় দেহগুলি এমনভাবে পুড়ে গিয়েছিল যে চেনার উপায় ছিল না। শেষ পর্যন্ত তাঁর হাতের ঘড়ি এবং পোশাক দেখে অজিত পওয়ারের দেহ শনাক্ত করা হয়। কাকতালীয়ভাবে, এনসিপির যে ‘ঘড়ি’ প্রতীক নিয়ে কাকা শরদ পওয়ারের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আইনি লড়াই চলেছে, সেই ঘড়িই শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করল।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও পওয়ার পরিবারের ঐক্য

২০২৩ সালে এনসিপিতে বিদ্রোহ করে বিজেপির হাত ধরে উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন অজিত। তবে সাম্প্রতিক পুণে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুরভোটে কাকা শরদ পওয়ারের দলের সঙ্গে তাঁর গোপন সমঝোতা এবং আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে একজোট হয়ে লড়াইয়ের প্রস্তুতি মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ‘পওয়ার পরিবার’-এর পুনর্মিলনের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। এই প্রেক্ষাপটে তাঁর মৃত্যু মরাঠা রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করল।

দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে বিতর্ক ও তদন্তের দাবি

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি বিষয়টিতে রাজনীতির যোগ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি তুলেছেন। তবে এনসিপি প্রতিষ্ঠাতা শরদ পওয়ার এই দাবি খারিজ করে দিয়ে বলেছেন, “এটি একটি নিছকই দুর্ঘটনা, দয়া করে এতে রাজনীতি জড়াবেন না।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অজিত পওয়ারের প্রশাসনিক দক্ষতা ও সমাজসেবার কথা স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রাহুল গান্ধী, অমিত শাহ ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই অকাল প্রয়াণে শোকবার্তা পাঠিয়েছেন।

বিমান সংস্থার সাফাই

ভিএসআর অ্যাভিয়েশন সংস্থার মালিক ভিকে সিং জানিয়েছেন, বিমানে কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল না। দৃশ্যমানতার অভাবকেই তিনি প্রাথমিক কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন। তবে গত আড়াই বছরে এই সংস্থার এটি দ্বিতীয় দুর্ঘটনা হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

অজিত পওয়ারের মৃত্যুতে মহারাষ্ট্র জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এক পরিশ্রমী এবং জনভিত্তি সম্পন্ন নেতার বিদায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.