ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা ভাটা পড়েছে বলে প্রকাশ্যেই স্বীকার করে নিলেন বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার ঢাকায় আয়োজিত এক বিদায়ী মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি মনে করেন, দুই দেশ নিজ নিজ স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার প্রাক্কালে তৌহিদ হোসেন জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী ছিল, কারণ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এই সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব ক্ষেত্রে সাফল্য আসেনি। তৌহিদ হোসেনের কথায়:
“ভারত তাদের স্বার্থের কথা চিন্তা করেছে এবং আমরা আমাদের স্বার্থের কথা ভেবেছি। দুই পক্ষের স্বার্থের অবস্থানে তফাৎ থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই আমরা এগোতে পারিনি। আমরা কাউকে দোষারোপ করতে চাই না, তবে এটা সত্য যে আমাদের সময়ে সম্পর্ক মসৃণ ছিল না।”
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় গ্রহণ দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানানো হলেও নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত জবাব মেলেনি। এই বিষয়ে তৌহিদ হোসেন ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে বলেন, “আমরা তাঁকে (হাসিনাকে) ফিরিয়ে দিতে বলেছি, তবে এখনও জবাব পাইনি। আশা করি ভবিষ্যতে এর একটি সুষ্ঠু সমাধানসূত্র পাওয়া যাবে।”
নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা
নির্বাচন পরবর্তী নতুন সরকারের ওপর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মেরামতের দায়িত্ব বর্তাবে বলে মনে করেন বিদায়ী উপদেষ্টা। তাঁর মতে, কোনো দেশের সঙ্গেই দ্বিপাক্ষিক সমস্যা থাকা অস্বাভাবিক নয়, তবে তা আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। আসন্ন নির্বাচিত সরকার ভারতের সঙ্গে পুনরায় একটি সাবলীল ও মসৃণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এক নজরে তৌহিদ হোসেনের মূল পর্যবেক্ষণসমূহ:
- স্বার্থের সংঘাত: দুই দেশের জাতীয় স্বার্থের ভিন্নতাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থবিরতার মূল কারণ।
- সম্পর্কের গুরুত্ব: ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
- বাস্তববাদী স্বীকারোক্তি: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সম্পর্কের পথে অনেক বাধা এসেছে এবং তা মসৃণ ছিল না।
- ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: নির্বাচিত নতুন সরকার এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠবে বলে তিনি বিশ্বাসী।

