সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও ব্রিটেনে দারিদ্র-সংকট বর্তমানে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ‘জোসেফ রাউন্ট্রি ফাউন্ডেশন’ (JRF) নামক একটি বেসরকারি সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশটিতে অতিদারিদ্রের হার ১৯৯৪-৯৫ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশদের মধ্যে এই দারিদ্রের হার সবচেয়ে বেশি।
‘অতিদরিদ্র’ কারা?
রিপোর্টে অতিদারিদ্রের একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যদি দুই সন্তানসহ বাবা-মায়ের একটি পরিবারের আয় সে দেশের গড় আয়ের ৪০ শতাংশের কম হয় এবং বাড়িভাড়া বা ঋণের কিস্তি মেটানোর পর হাতে বছরে ১৬,৪০০ পাউন্ডের (প্রায় ১৮.২০ লক্ষ টাকা) কম থাকে, তবে সেই পরিবারকে ‘অতিদরিদ্র’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
বিপন্ন শৈশব ও অপুষ্টির হাহাকার
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, বর্তমানে ব্রিটেনে প্রায় ৪৫ লক্ষ শিশু অতি দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী:
- প্রায় ১০ লক্ষ শিশু শীতের দিনে প্রয়োজনীয় উষ্ণ পোশাক পায় না।
- দুই বেলা পর্যাপ্ত খাবার না মেলায় শিশুদের মধ্যে অপুষ্টিজনিত সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদী রোগ বাড়ছে।
- ১৯৯৪ সালে অতিদারিদ্রের হার ৮ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
স্টার্মার সরকারের পদক্ষেপ ও বিতর্ক
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের সরকার এই সংকট মোকাবিলায় তৎপর হয়েছে। অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস ঘোষণা করেছেন যে, ২০১৭ সাল থেকে কার্যকর থাকা ‘টু-চাইল্ড লিমিট’ বা দুই সন্তানের অধিক হলে সরকারি সুবিধা না দেওয়ার নিয়মটি শিথিল করা হচ্ছে। আগামী এপ্রিল থেকে নিম্ন আয়ের পরিবারের তৃতীয় সন্তানও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবে।
তবে জোসেফ রাউন্ট্রি ফাউন্ডেশন সতর্ক করে জানিয়েছে, শুধুমাত্র এই একটি পদক্ষেপ দারিদ্র দূর করার জন্য যথেষ্ট নয়। শিশুদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকারকে আরও বড় মাপের অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে হাঁটতে হবে।

