‘গোপন বোঝাপড়া করে বেআইনি ভাবে ইস্পাতের দাম বাড়িয়েছে টাটা, জিন্দল সেল’! তদন্ত রিপোর্টে অভিযোগ

ইস্পাতের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেআইনি পদক্ষেপের অভিযোগে টাটা স্টিল, জেএসডব্লিউ স্টিল, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সেল-সহ ২৫টির বেশি ইস্পাত উৎপাদন সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করল ‘কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া’ (‘ভারতীয় প্রতিযোগিতা কমিশন’ বা সিসিআই)। ওই ইস্পাত নির্মাতা সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের তথ্যপ্রমাণ মিলেছে বলে তদন্তকারীদের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি।

সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পরিকল্পিত যোগসাজসের মাধ্যমে ইস্পাত উৎপাদন ও সরবরাহের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টির অভিযোগ উঠছিল। ইস্পাতের মূল্যবৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই তারা এমনটা করেছিল বলে অভিযোগ। সিসিআই রিপোর্টে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি। এর ফলে টাটা, জিন্দলের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সেল-কেও বড় জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

সংবাদসংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত খবরে দাবি, ২০২১ সালে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে বিভিন্ন ইস্পাত নির্মাতা সংস্থার ৫৬ জন শীর্ষ আধিকারিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে সিসিআই। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, জেএসডব্লিউ-এর প্রধান সজ্জন জিন্দল, টাটা স্টিলের সিইও টিভি নরেন্দ্রন এবং সেল-এর চার জন প্রাক্তন চেয়ারম্যান। গত ৬ অক্টোবর সিসিআই এ সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করলেও তা এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কোম্পানিগুলিকে চূড়ান্ত বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেওয়া হবে। তার পরেই তা প্রকাশ্যে আসতে পারে। ভারতীয় ইস্পাতশিল্পের ইতিহাসে এটিই বৃহত্তম ‘অ্যান্টিট্রাস্ট’ মামলা বলে পরিচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.