Sukanta, BJP, ২১- এ ভোট পেয়েছিলাম ৩৮ শতাংশ, ২৪- এ বেড়ে হয়েছে ৩৯ শতাংশ, ২৬- এ সরকার গঠন করব: হুঙ্কার সুকান্তর

বঙ্গ বিজেপির সংকল্প যাত্রার কর্মসূচিতে পাঁচ দিনের জেলা সফরে বেড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আজ তিনি ছিলেন ঝাড়গ্রাম। সেখান থেকেই তাঁর হুঙ্কার, ২১-এ পেয়েছিলাম ৩৮ শতাংশ ভোট, ২৪- এ বেড়ে হয়েছে ৩৯ শতাংশ, ২৬- এ সরকার গঠন করব। তাঁর কথায়, তৃণমূল নামক ভূত পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়াতেই হবে। তৃণমূল থাকলে পশ্চিমবঙ্গ পশ্চিম বাংলাদেশ হয়ে যাবে।

ঝাড়গ্রামে বক্তব্যের প্রথমেই সুকান্ত বাবু আদিবাসী অস্মিতাকে উস্কে দেন। তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার পর বিজেপি প্রথম দেশের আদিবাসীদের কথা বিশেষভাবে বিবেচনা করেছে। তিনি মনে করান একের পর এক প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন ও গেছেন, কিন্তু আদিবাসী সমাজের উন্নতি হয়নি। আদিবাসী সমাজের জন্য প্রথম একটা মন্ত্রক তৈরির কাজ করেছিলেন বিজেপির প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। আর নরেন্দ্র মোদী এক আদিবাসী সাধারণ মহিলাকে ভারতের প্রথম নাগরিক হবার মর্যাদা দিয়েছেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করলেও তৃণমূলের আদিবাসী নেতারা অখিল গিরির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ করেনি সে ক্ষমা চায়নি।

কিন্তু সেখানে বিজেপির মতো বড় দল জ্যোতির্ময় সিং মাহাতকে তাদের দলের জেনারেল সেক্রেটারি করেছে। খগেন মুর্মুকে সাধারণ আসন থেকে প্রার্থী করে আদিবাসী সমাজকে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রসঙ্গত, উত্তর মালদা থেকে খগেন মুর্মু দু’দুবার জিতেছেন। এই আসনটি সাধারণ আসন।

একই সঙ্গে সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ভাইপো, তার দলবল পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করছে। ফলে আবার তৃণমূল ক্ষমতা এলে কোথায় যাবেন ভেবে রাখতে হবে। কারণ তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে হিন্দু আদিবাসীদের বাড়ি ঘর সবকিছু লুট হয়ে যাবে। এই প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশে দীপু দাস, খোকন দাসকে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনায় তৃণমূল মুখে একটা রাও কাটেনি। কোনো কথা বলছে না। তৃণমূল বলছে, এটা বাংলাদেশে হচ্ছে, আমাদের এখানে কিছু হচ্ছে না। কিন্তু মুর্শিদাবাদে চন্দন দাস, হরগোবিন্দ দাসকে কুপিয়ে খুনের ঘটনা ঘটেছে। আর এই ঘটনা ঘটিয়েছে দিদি যাদেরকে দুধেল গাই বলে, তারা।

একই সঙ্গে সুকান্ত মজুমদার ডানকুনিতে এক আদিবাসী মহিলা বিএলও’কে এক বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী প্রাণে মারার হুমকির ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ডানকুনি দু’নম্বর ওয়ার্ডের ৫ নম্বর বুথে বিএলওর কাজ করতে গিয়েছিল বিমলী টুডু হাঁসদা।তাকে আবদুল রহিম গাজী যিনি দিদির দুধেল গাই, তাকে প্রাণে মারার হুমকি দেয়। দিদির দুধেল গাইরা হিন্দু আদিবাসীদের গায়ে হাত দিচ্ছে, এমন অবস্থায় পৌঁছে গেছে পশ্চিমবঙ্গ। তাই নিজের স্বার্থে তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানান তিনি।

হিসেব কষে বুঝিয়ে দেন, ২১ এর ভোটের পর বিজেপির উপর চরম হামলা হলেও বিজেপির ভোট কিন্তু কমেনি। বরং বেড়েছে। ফলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করবে। তিনি বলেন, “২০২১ সালে ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলাম। ২০২৪ সালে সেই ভোট বেড়ে হয়েছে ৩৯ শতাংশ। ২০২৬ সালে আমরা সরকার গঠন করব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.