বাসন্তীকাণ্ডে কড়া কমিশন: আইসি সাসপেন্ড, শুরু বিভাগীয় তদন্ত; দায়িত্বে এলেন প্রবীর ঘোষ

বাসন্তীকাণ্ডে কড়া কমিশন: আইসি সাসপেন্ড, শুরু বিভাগীয় তদন্ত; দায়িত্বে এলেন প্রবীর ঘোষ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে অশান্তি এবং পুলিশ নিগ্রহের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। কর্তব্যে গাফিলতি ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে বাসন্তী থানার আইসি (IC) অভিজিৎ পালকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দিয়েছে কমিশন। শুক্রবার অভিজিৎ পালের পরিবর্তে প্রবীর ঘোষকে বাসন্তী থানার নতুন আইসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

গত বৃহস্পতিবার বাসন্তীতে বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সরদারের নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে উন্মত্ত জনতার হাতে আক্রান্ত হয় পুলিশ। অভিযোগ, এক সাব-ইন্সপেক্টর (SI) এবং পাঁচ জন কনস্টেবলকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখেছে নির্বাচন কমিশন। ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গোয়েন্দা ব্যর্থতা ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে প্রশ্ন

বাসন্তীর ঘটনায় প্রশাসনের সমন্বয় নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। বিশেষ করে:

  • কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহারে দেরি: পর্যাপ্ত বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কেন মাত্র ২ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী ডাকা হলো এবং কেন তাদের পৌঁছাতে দেরি হলো, তা নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজিপি-র (DGP) কাছে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।
  • অনুমতিহীন মিছিল: যথাযথ অনুমতি ছাড়াই কীভাবে রাজনৈতিক মিছিল হলো, তা নিয়ে ‘গোয়েন্দা ব্যর্থতা’র দিকে আঙুল তোলা হয়েছে।

রাজ্যজুড়ে জরুরি নির্দেশিকা

বাসন্তীর ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে রাজ্যের সমস্ত পুলিশ সুপার (SP) এবং পুলিশ কমিশনারদের জরুরি নির্দেশ পাঠিয়েছে কমিশন। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে:

  1. যেকোনো রাজনৈতিক অশান্তি মোকাবিলায় শুরুতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগাতে হবে।
  2. আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনে থানার ওসি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী আইন মেনে বল প্রয়োগ করতে পারবে।
  3. শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভোটপ্রচারে কোনো ধরনের অশান্তি বা পুলিশ ও নির্বাচন কর্মীদের ওপর হামলা বরদাস্ত করা হবে না। আইসি-র বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ আদতে রাজ্যের বাকি পুলিশ আধিকারিকদের জন্য একটি কড়া বার্তা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.