চার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘ফেসবুক-এক্স’ (সাবেক টুইটার) নিয়ন্ত্রণে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। এতদিন সোশ্যাল মিডিয়ার বিতর্কিত কনটেন্ট ব্লক করার একচ্ছত্র ক্ষমতা কেবল ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের হাতে থাকলেও, এবার সেই ক্ষমতার ‘বিকেন্দ্রীকরণ’ হতে চলেছে। অর্থাৎ, বিশেষ প্রয়োজনে সরকারের অন্যান্য মন্ত্রকও সরাসরি ক্ষতিকারক পোস্ট ব্লক করার ক্ষমতা পেতে পারে।
অশ্বিনী বৈষ্ণবের ইঙ্গিত ও নতুন প্রস্তাব
কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিভিন্ন মন্ত্রকের আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এই দলই একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে, যেখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ও ক্ষতিকারক তথ্য দ্রুত রুখে দিতে ব্লকিং পাওয়ার বা ক্ষমতা ভাগ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মূল লক্ষ্যসমূহ:
- দ্রুত পদক্ষেপ: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক নিজেই ব্যবস্থা নিতে পারবে।
- ভুয়ো তথ্যে লাগাম: বিশেষ করে নির্বাচনের সময় ভুল তথ্য ছড়ানো আটকাতে এই পদক্ষেপ কার্যকর হবে।
- যাচাইকরণ: সাধারণ মানুষ যাচাই না করেই বহু পোস্ট শেয়ার করেন, যা দ্রুত চিহ্নিত করে ব্লক করা সম্ভব হবে।
আইটি অ্যাক্ট সংশোধন ছাড়াই বদল?
মজার বিষয় হলো, আইটি অ্যাক্ট (IT Act) সংশোধন না করেই কীভাবে অন্যান্য মন্ত্রকের হাতে এই ক্ষমতা তুলে দেওয়া যায়, সরকার আপাতত সেই পথই খুঁজছে। অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হলে ক্ষতিকর কনটেন্ট রুখে দেওয়া অনেক বেশি সহজ এবং গতিশীল হবে।
মন্ত্রীর বক্তব্য: “যদি অন্যান্য মন্ত্রকের হাতেও এই ক্ষমতা থাকে, তবে বিতর্কিত পোস্টগুলি দ্রুত শনাক্ত করা যাবে এবং ডিজিটাল দুনিয়ায় ভুয়ো খবরের দাপট অনেকটাই কমবে।”
ঘনিয়ে উঠছে বিতর্কের মেঘ: বাক-স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন
সরকারের এই প্রস্তাব ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ এবং ডিজিটাল অধিকার কর্মীদের মনে কিছু সুনির্দিষ্ট সংশয় দেখা দিয়েছে:
- সমালোচনায় কোপ? ক্ষতিকারক কনটেন্টের দোহাই দিয়ে সরকার-বিরোধী বা গঠনমূলক সমালোচনাও কি ব্লক করে দেওয়া হবে?
- স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: প্রতিটি মন্ত্রক স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিলে সোশ্যাল মিডিয়ায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকছে।
- আইনি জটিলতা: আইটি অ্যাক্টের গুরুত্ব কমিয়ে প্রশাসনিক স্তরে এই ক্ষমতা বণ্টন আইনি ভারসাম্য নষ্ট করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চার রাজ্যের ভোটের আবহে এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হওয়ার পর জনমানসে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এর কী প্রতিক্রিয়া হয়, এখন সেটাই দেখার।

