সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনী তালিকায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ (তাত্ত্বিক অসঙ্গতি) এবং ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারদের তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করল নির্বাচন কমিশন। শনিবার রাতে দিল্লি থেকে এই বিশদ তালিকা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে এসে পৌঁছেছে। আজ, রবিবার সকাল থেকেই জেলা স্তরে নির্দিষ্ট দফতরগুলিতে এই তালিকা টাঙানোর কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দিল্লি থেকে আসা তালিকায় ১ কোটির বেশি নাম
কমিশন সূত্রে খবর, শনিবার রাতে আসা এই তালিকায় প্রায় ১ কোটি ২৬ লক্ষ নাগরিকের নাম রয়েছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশানুসারে, মূলত দুই ধরনের তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে:
- লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি তালিকা: এসআইআর (SIR) মামলায় শুনানির জন্য যাঁদের ডাক পড়েছে, তাঁদের তথ্যের অসঙ্গতি সংক্রান্ত তালিকা।
- নো-ম্যাপিং তালিকা: যে সব ভোটারের ঠিকানার সঠিক ম্যাপিং নেই, তাঁদের তালিকা।
কোথায় দেখা যাবে এই তালিকা?
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই তালিকা তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
- গ্রামীণ এলাকায়: সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত অফিস এবং ব্লক অফিসে।
- পুরসভা এলাকায়: ওয়ার্ড অফিস বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরে।
ইতোমধ্যেই সমস্ত নির্বাচনী আধিকারিকদের (ইআরও) কাছে এই তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে রবিবার সকাল থেকেই তা জনসাধারণের জন্য উপলব্ধ হয়।
জেলাশাসকদের কাছে রিপোর্ট তলব: কেন এই বিভ্রান্তি?
শনিবার দিনভর এই তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে রাজ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। দিল্লির তালিকা পৌঁছানোর আগেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এই বিষয়টি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে কমিশন।
- প্রশ্ন: দিল্লি থেকে তালিকা শনিবার রাতে পৌঁছালে, দিনের বেলা জেলাগুলিতে কোন তালিকা টাঙানো হয়েছিল?
- পদক্ষেপ: সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) তথা জেলাশাসকদের কাছ থেকে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন। যথাযথ যাচাই না করে কীভাবে এই তালিকা প্রকাশ করা হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

