বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আবহের মধ্যেই ধাতব বাজারে বড়সড় ওলটপালট। রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর একধাক্কায় প্রায় ৫০ শতাংশ দাম কমল রুপোর। মার্কিন ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়ায় রুপোর দামে এই নজিরবিহীন পতন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
এমসিএক্স (MCX) ও বাজার পরিস্থিতি
মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা এমসিএক্স-এ মে মাসের নিরিখে রুপোর দাম প্রায় ৪৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ৩০ মার্চ বাজার বন্ধের সময় প্রতি কেজি রুপোর দর দাঁড়িয়েছে ২,২৯,০৩৩ টাকা। উল্লেখ্য, এর আগে রুপো এই সর্বোচ্চ স্তরেই অবস্থান করছিল।
রুপোর দাম কমলেও ডলারের সূচক (Dollar Index) মার্চ মাসে প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১০০-র ঘরে পৌঁছেছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বিশ্ববাজারে রুপোর মতো ধাতুর চাহিদা ও দাম— দুইই প্রভাবিত হচ্ছে।
তেলের বাজারে আগুন ও সুদের হারের অনিশ্চয়তা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্রতর হচ্ছে। হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম বাড়লে পরিবহণ খরচ বাড়বে, যা সরাসরি মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দেবে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ এই বছর সুদের হার কমাবে না বললেই চলে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে রুপোয় বিনিয়োগ নিয়ে এনরিচ মানি-র সিইও পনমুডি আর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান:
- স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ: এখনই বড় বিনিয়োগে ঝুঁকি রয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা দাম কিছুটা বাড়াতে পারলেও ডলারের শক্তিশালী অবস্থান তা দীর্ঘস্থায়ী হতে দেবে না।
- প্রতিরোধ ও লক্ষ্যমাত্রা: রুপোর জন্য ২,৩২,০০০ টাকা এখন তাৎক্ষণিক বাধা (Immediate Resistance) হিসেবে কাজ করছে। দাম যদি এর উপরে থিতু হয়, তবে তা ২,৩৭,০০০ থেকে ২,৪০,০০০ টাকার ঘরে পৌঁছাতে পারে।
- সতর্কতা: যদি দাম ২,২০,০০০ টাকার নিচে নেমে যায়, তবে বিনিয়োগকারীদের বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা বা রুপোর দাম মূলত ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে। তবে রুপোর ক্ষেত্রে শিল্পক্ষেত্রে চাহিদাও একটি বড় ফ্যাক্টর, যার ফলে সোনার তুলনায় রুপোর বাজারে অস্থিরতা ও দামের ওঠানামা অনেক বেশি দেখা যায়।

