নিজের প্রাণ দিয়ে অন্যদের বাঁচালেন শশাঙ্ক, নিজে আজও নিখোঁজ

নিজের প্রাণ দিয়ে অন্যদের বাঁচালেন শশাঙ্ক, নিজে আজও নিখোঁজ

পূর্ব মেদিনীপুরের ধানিচকের বাসিন্দা শশাঙ্ক জানা গত ১০ বছর ধরে আনন্দপুরে ফুলের কাজ করতেন। পরিবারের দাবি, রবিবার রাতে যখন গুদামে আগুন লাগে, শশাঙ্কই প্রথম তা দেখতে পান। নিজে না পালিয়ে তিনি চিৎকার করে সহকর্মীদের ঘুম ভাঙান। তাঁর ভাইপো সুশান্ত জানাও সেখানে ছিলেন। শশাঙ্কই তাঁকে জাগিয়ে দেন এবং সুশান্ত প্রাণ বাঁচাতে ওপর থেকে নিচে ঝাঁপ দেন। সুশান্ত বর্তমানে পিঠের চোট নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও, অন্যদের বাঁচাতে যাওয়া শশাঙ্কের কোনো হদিস সোমবার রাত পর্যন্ত মেলেনি।

নিখোঁজের তালিকায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীও

নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছে কিশোর দেবাদিত্য দিন্দাও। এ বছর তার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। পরিবারের অভাব দূর করতে কয়েক দিনের জন্য ডেকোরেটর্সের কাজে এসেছিল সে। দেবাদিত্যের কাকার কথায়, “শশাঙ্কই তাকে ঘুম থেকে তুলেছিল, কিন্তু তারপর কী হলো কেউ জানে না।” এছাড়া পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা এলাকার তিন যুবক— কৃষ্ণেন্দু ধাড়া, অনুপ প্রধান এবং বিশ্বজিৎ সাউ-ও নিখোঁজ। তাঁদের ঘরে কোলের সন্তান ও স্ত্রীরা অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।


শনাক্তকরণে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত

আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে উদ্ধার হওয়া ৮টি মৃতদেহের কোনোটিই চেনার অবস্থায় নেই। দগ্ধ দেহাংশগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। পিংলার বিধায়ক অজিত মাইতি জানিয়েছেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

  • সম্ভাব্য কারণ: গুদামের ভেতরেই প্লাই দিয়ে অস্থায়ী ঘর বানিয়ে থাকতেন শ্রমিকেরা। সেখানেই তাঁরা রান্না করতেন। মনে করা হচ্ছে, রান্নার আগুন বা শর্ট সার্কিট থেকে এই বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে।
  • দমকলের তৎপরতা: রবিবার রাত ৩টে থেকে শুরু হওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলের ১২টি ইঞ্জিন কাজ করেছে। ৩২ ঘণ্টা পরও ঘটনাস্থলে ধিকিধিকি আগুন ও ধোঁয়া দেখা গিয়েছে।
  • প্রশাসনিক পরিদর্শন: মঙ্গলবার বিকেলে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি খেয়াদহ-২ পঞ্চায়েত দফতরে গিয়ে নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং সাহায্যের আশ্বাস দেন।

আশায় বুক বেঁধে ধ্বংসস্তূপের বাইরে ঠায় বসে থাকা পরিজনদের চোখে এখন কেবলই জল। অলৌকিক কিছুর আশায় থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে সেই আশার প্রদীপ ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.