পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা ও লেখক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া। রবিবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা সীমান্তের তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিং পরবর্তী এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪২ বছর।
দুর্ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় ও শুটিং ইউনিট সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল থেকেই তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ নামক একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। বিকেলে শুটিং শেষ হওয়ার (প্যাক-আপ) পর রাহুল একাই সমুদ্রের জলে নামেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সমুদ্রের বালিতে রাহুলের পা কোনোভাবে আটকে গিয়েছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই একটি বড় ঢেউ আছড়ে পড়লে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তলিয়ে যেতে থাকেন।
সৈকতে দাঁড়িয়ে থাকা রাহুলের সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র চিৎকার করে সকলকে সতর্ক করার চেষ্টা করেন। সহ-অভিনেতা দিগন্ত বাগচী জানান, “টেকনিশিয়ানরা চিৎকার করে বলছিলেন রাহুলদা ডুবে যাচ্ছেন। উদ্ধার করার সময়ও তাঁর দেহে প্রাণ ছিল।” রাহুলের গাড়িচালক জানান, তিনি বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও রাহুল সমুদ্রের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন।
উদ্ধারকাজ ও শেষ মুহূর্ত
আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাহুলকে উদ্ধার করে দ্রুত দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রোডাকশন ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী জানান, রাস্তা অত্যন্ত যানজটপূর্ণ থাকায় হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হয়। গাড়ির মধ্যেই টেকনিশিয়ানরা তাঁর বুকে হাত বুলিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করছিলেন। চন্দ্রশেখরের অনুমান, হাসপাতালে যাওয়ার পথেই তীব্র শ্বাসকষ্টের কারণে তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়। সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে চিকিৎসকেরা রাহুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
শোকাতুর টলিপাড়া
রাহুলের অকাল প্রয়াণের খবর পাওয়ামাত্রই তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অভিনেতার দেহ বর্তমানে দিঘা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সোমবার কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে তাঁর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।
শুটিং ইউনিটের সদস্য অম্বরীশ ভট্টাচার্য ও ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ অভিনেতারা এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। অভিনয়ের পাশাপাশি চমৎকার লেখনশৈলীর জন্য পরিচিত রাহুলের এই প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি।

