মুরলীধর সেন লেন থেকে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ—আকারে ও বহরে দল বাড়ার সাথে সাথেই বদলেছে বঙ্গ বিজেপির প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা। এবার সেই পথেই হাঁটতে চলেছেন খোদ দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বিধাননগরের বিএইচ ব্লকের দীর্ঘ ৩৫ বছরের পরিচিত আস্তানা ছেড়ে এবার আরও বড় এবং প্রশস্ত কোনো বাড়িতে সরতে চলেছেন তিনি। মূলত কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জায়গা সংকুলান এবং উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে বিজেপি সূত্রের খবর।
পুরনো আস্তানায় স্থানাভাব
১৯৯১ সাল থেকে শমীক ভট্টাচার্য বিধাননগরের এই বাড়িতে বসবাস করছেন। হাওড়ার শিবপুরের ছেলে হলেও জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি কাটিয়েছেন সল্টলেকের এই বিএইচ ব্লকের বাড়িতেই। গত ৩ জুলাই রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁর বাড়িতে সাক্ষাৎপ্রার্থীদের আনাগোনা প্রায় দশ গুণ বেড়েছে।
- ভিড়ের চাপ: সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনুগামী ও কর্মীদের ভিড়ে বসার ঘর উপচে পড়ছে।
- যাতায়াতে সমস্যা: ভিআইপিদের গাড়ির ভিড়ে সঙ্কীর্ণ গলি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে।
- বিজেপির পুরনো কর্মীরা তাঁর এই বাড়ির ঠিকানা এতটাই চেনেন যে, যে কোনো সময় তাঁরা সেখানে পৌঁছে যান, যার ফলে ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার বাধ্যবাধকতা
নতুন বাড়ি খোঁজার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো শমীক ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে সুকান্ত মজুমদার এবং দিলীপ ঘোষও রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন এই নিরাপত্তা পেয়েছেন।
- নিরাপত্তার ধরণ: ঝুঁকি বিচার করে তাঁকে ‘ওয়াই’, ‘ওয়াই প্লাস’ বা ‘জেড’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হতে পারে।
- বাসস্থানের সমস্যা: কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের থাকার জন্য বাড়ির একটি বড় অংশ বা আস্ত একটা তলা প্রয়োজন হয়। শমীক বাবুর বর্তমান পৈতৃক বাড়িতে ১০ থেকে ৩০ জন জওয়ানের থাকার মতো জায়গা নেই।
কেমন হবে নতুন ঠিকানা?
রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এমন একটি বাড়ির খোঁজ চলছে যেখানে অন্তত ৮-১০টি ঘর এবং একটি বড় হল থাকবে। নতুন এই আস্তানায় থাকবে:
- সভাপতির খাসকামরা ও অফিস: কাজ পরিচালনার জন্য আলাদা ঘর।
- সাক্ষাৎকার কক্ষ: আগত কর্মীদের বসার ও কথা বলার জন্য বড় হলঘর।
- নিরাপত্তা বাহিনীর আবাসন: কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার জন্য পৃথক ফ্লোর।
দলীয় সূত্রে খবর, বিধাননগরের মধ্যেই এই বাড়ির খোঁজ চলছে যাতে পৈতৃক ভিটে এবং সেক্টর ফাইভের রাজ্য দপ্তর—উভয় থেকেই খুব বেশি দূরে সরতে না হয়। দিলীপ ঘোষ বর্তমানে নিজের বাংলোয় থাকলেও, প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এখনও নিউটাউনে দলের দেওয়া বাড়িতেই থাকেন। এবার শমীক ভট্টাচার্যের ক্ষেত্রেও তেমন কোনো ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে আবাসন বদলালেও খাতায়-কলমে তাঁর স্থায়ী ঠিকানায় কোনো পরিবর্তন আসছে না বলেই জানা গেছে।

